ঢাকা: রাজধানীর গুলশানে আর্টিজান হোটেলে স্বস্তি এনেছে ১৩ মিনিটের অপারেশন থান্ডারবোল্ট। সকাল সাতটা ৪০ মিনিটে শুরু হওয়া অপারেশন শেষ হয় ১৩ মিনিটের অভিযানে। এই সময়ের মধ্যেই নির্মূল হয় ছয় জঙ্গি। আর জীবিত ধরা পরে একজন।
সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে পরিচালিত অপারেশন থান্ডারবোল্টে অংশ নেয়- নৌ, বিমান বাহিনী, র্যাব, সোয়াত, বিজিবি, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশ। যৌথবাহিনীর এই কমান্ডো অভিযান পুরোপুরি শেষ হয় সকাল আটটায়।
সেনা সদর দপ্তরে এ অভিযান সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন মিলিটারি অপারেশনের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাঈম আশফাক চৌধুরী। আইএসপিআরের ব্রিফিংয়ে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন।
নাঈম আশফাক চৌধুরী বলেন, সরকার প্রধান এ ঘটনায় সেনাবাহিনীকে হস্তক্ষেপের কথা বললে তাৎক্ষণিকভাবে সেনাবাহিনী ‘অপারেশন থান্ডারবোল্ট’ পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেয়। এরপর সকালে শুরু হয় অভিযান। প্যারা কমান্ডোরা ৭টা ৪০ মিনিটে অপারেশন শুরু করে। ১২ থেকে ১৩ মিনিটের মধ্যে সকল অপরাধীকে নির্মূল করে সকাল সাড়ে ৮টায় অভিযানের সফল সমাপ্তি হয়।
এই সেনা কর্মকর্তা জানান, যৌথ অভিযান শুরুর আগেই জঙ্গিরা ২০ জন বিদেশি নাগরিককে হত্যা করে। এ ঘটনায় পুলিশের দুইজন সাহসী অফিসার শাহাদাতবরণ করেছেন। আহত হয়েছে ২০ পুলিশ সদস্য। অভিযানে একজন জাপানি ও দুইজন শ্রীলঙ্কানসহ মোট ১৩জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
এরপর তল্লাশি চালিয়ে ২০টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয় জানিয়ে তিনি বলেন, এদের সবাইকে রাতেই হত্যা করা হয়। ধারাল অস্ত্রের মাধ্যমে নৃশংসভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয় বলে জানান এই সেনা কর্মকর্তা। নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করতেও পারলেও তারা সবাই বিদেশি বলে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে জানান তিনি। তদন্তের পর ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরা হবে বলে জানান এই সেনা কর্মকর্তা।
