একুশে পত্রিকায় সংবাদ: মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রে আগুনের ঘটনায় তদন্ত কমিটি


কক্সবাজারের মহেশখালীতে মাতারবাড়ী কয়লাবিদ্যুৎ কেন্দ্রের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় একুশে পত্রিকায় প্রকল্পের নিরাপত্তা ঘাটতি ও ‘চোর সিন্ডিকেট’ নিয়ে অনুসন্ধানী সংবাদ প্রকাশের মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে এই কমিটি গঠন করা হয়।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে (রাজস্ব) আহ্বায়ক করে গঠিত এই কমিটিকে আগামী ১০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক (ডিসি) এম এ মান্নান স্বাক্ষরিত এক আদেশে কমিটি গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন—কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক, পুলিশ সুপারের প্রতিনিধি, কোল পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (সিপিজিসিবিএল) ব্যবস্থাপক ও নিরাপত্তা প্রধান, মহেশখালীর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং ফায়ার সার্ভিসের প্রতিনিধি।

এর আগে গত সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টার দিকে মাতারবাড়ী কয়লাবিদ্যুৎ কেন্দ্রের স্ক্র্যাপ ইয়ার্ডে আগুনের সূত্রপাত হয়। দীর্ঘ আট ঘণ্টার চেষ্টায় মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এ ঘটনায় বিদ্যুৎকেন্দ্রের মূল উৎপাদন ইউনিট বা বয়লারে কোনো ক্ষতি হয়নি এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন স্বাভাবিক রয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে।

তবে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে কীভাবে বারবার আগুনের ঘটনা ঘটছে, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় একুশে পত্রিকায় মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্র: কঠোর নিরাপত্তার ভেতরেই বারবার আগুন, নেপথ্যে ‘চোর সিন্ডিকেট’? শিরোনামে একটি ফলোআপ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এতে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, ফায়ার সার্ভিস এবং নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের বরাতে প্রকল্পের ভেতরের নিরাপত্তা দুর্বলতা, চোর চক্রের সক্রিয়তা এবং দায়িত্বশীলদের গাফিলতির চিত্র তুলে ধরা হয়।

প্রতিবেদনটি প্রকাশের পরপরই নড়েচড়ে বসে জেলা প্রশাসন। কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক এম এ মান্নান বলেন, “মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভেতরের স্ক্র্যাপ ইয়ার্ডে অগ্নিকাণ্ডের আসল রহস্য উদ্ঘাটনে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে (রাজস্ব) প্রধান করে সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।”

তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) নিজাম উদ্দিন আহমেদ সংবাদমাধ্যমের ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, “সংবাদপত্রের মাধ্যমে অনেক গোপন তথ্য আমরা জানতে পারি। মাতারবাড়ী কয়লাবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভেতরের যে দুরবস্থা একুশে পত্রিকা তুলে ধরেছে, তা আমাদের কল্পনার বাইরে ছিল। এই প্রতিবেদন আমাদের তদন্ত কাজে অনেক সহায়ক হবে।”

তিনি আরও জানান, তদন্ত কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে আগামী রোববার নাগাদ সরেজমিন পরিদর্শনসহ চূড়ান্ত তদন্ত কার্যক্রম পুরোদমে শুরু করা হবে।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালেও মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রে অনুরূপ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল, যা কোল পাওয়ারের কর্মকর্তাদের লুকোচুরিতে ধামাচাপা পড়ে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। এবারের ঘটনাতেও ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছিল বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তবে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর প্রশাসনের তড়িৎ পদক্ষেপে বিষয়টি নতুন মোড় নিয়েছে।