টেকনাফে বসতঘরে মিয়ানমারের গুলি, আতঙ্কে ঘর ছাড়ছে মানুষ


মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে আরাকান আর্মি ও রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে চলমান সংঘর্ষের জেরে বাংলাদেশ সীমান্তে আতঙ্ক কমছে না। ওপার থেকে আসা গুলিতে বাংলাদেশি শিশু আহতের ঘটনায় ঢাকায় নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

এদিকে সংঘাতের জেরে মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) ভোরেও টেকনাফের হোয়াইক্যং সীমান্তে বসতবাড়িতে গুলি এসে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও আতঙ্কিত হয়ে অনেক পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাচ্ছে।

রাষ্ট্রদূতকে তলব ও ঢাকার উদ্বেগ

সীমান্তের ওপার থেকে আসা গুলিতে বাংলাদেশি শিশু আহতের ঘটনায় মঙ্গলবার ঢাকায় নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত কিয়াও সোয়ে মোকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করা হয়। এ সময় ঢাকার পক্ষ থেকে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাংলাদেশকে লক্ষ্য করে বিনা উসকানিতে গুলিবর্ষণ আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন এবং সুপ্রতিবেশী সুলভ সম্পর্কের অন্তরায়—বিষয়টি মিয়ানমারকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে। জবাবে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত আশ্বস্ত করেন, তার সরকার এ ধরনের ঘটনা বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

বসতঘরে গুলি, সীমান্তে আতঙ্ক

সীমান্তে গত চার দিনের তুলনায় মঙ্গলবার গোলাগুলি ও বিস্ফোরণের শব্দ কিছুটা কম শোনা গেলেও সংঘর্ষ থামেনি। এদিন ভোরে টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের তেচ্ছিব্রিজ গ্রামে দুটি বসতবাড়িতে মিয়ানমার থেকে আসা গুলি এসে পড়ে।

তেচ্ছিব্রিজ এলাকার বাসিন্দা নবী হোছাইন বলেন, “সোমবার রাত ও মঙ্গলবার ভোরেও সীমান্তের ওপার থেকে গোলার বিকট শব্দ পাওয়া যাচ্ছিল। এর কিছুক্ষণ পর হঠাৎ একটি গুলি এসে আমার ঘরের দেয়াল ভেদ করে ভেতরে ঢোকে।”

আহতদের অবস্থা

গত রোববার সীমান্তে গুলিতে আহত ৯ বছর বয়সী শিশু হুজাইফা আফনানকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল থেকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে। বিজিবির বিশেষ অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে নেওয়া হয়।

অন্যদিকে, সোমবার হোয়াইক্যং সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণে আহত যুবক আবু হানিফের পায়ের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ কেটে ফেলতে হয়েছে। তিনি বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।