চকরিয়ায় ফসলি জমির ‘প্রাণ’ লুটছে সিন্ডিকেট, খাদ্য ঘাটতির শঙ্কা


কক্সবাজারের চকরিয়ায় ফসলি জমির উপরিভাগের উর্বর মাটি বা ‘টপসয়েল’ কেটে বিক্রির মহোৎসব চলছে। স্থানীয় একটি চক্র এক্সকাভেটর দিয়ে জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে এই মাটি বিভিন্ন ইটভাটা ও ভরাট কাজে বিক্রি করছে। এতে জমির উর্বরতা শক্তি নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) উপজেলার পশ্চিম বড়ভেওলা ও ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নে পৃথক অভিযান চালিয়ে মাটি কাটার দায়ে দুই ব্যক্তিকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানের নেতৃত্ব দেন চকরিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রূপায়ন দেব।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, অবৈধভাবে কৃষি জমি কেটে মাটি লুটের অভিযোগে পশ্চিম বড়ভেওলা এলাকায় মো. নাজিম উদ্দীনকে ১ লাখ টাকা এবং ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ছাইরাখালী এলাকায় মো. রবিউল হাসানকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

অভিযানের বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) রূপায়ন দেব বলেন, কৃষি জমির উর্বরতা নষ্ট করে অবৈধভাবে টপসয়েল লুটের এই কর্মকাণ্ড পরিবেশ ও কৃষি উৎপাদনের জন্য মারাত্মক হুমকি। কৃষি জমি রক্ষায় আদালতের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, গত দুই মাসের বেশি সময় ধরে উপজেলার উপকূলীয় অঞ্চলসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে জমির টপসয়েল কাটার ধুম পড়েছে। ঢেমুশিয়া, পশ্চিম বড়ভেওলা, বিএমচর, কোনাখালী, সাহারবিল ও পূর্ব বড়ভেওলা ইউনিয়নে ফসলি জমির মাঠে শোভা পাচ্ছে মাটি কাটার এক্সকাভেটর। ডাম্পার ও মিনি ট্রাকে করে এসব মাটি চলে যাচ্ছে ইটভাটায় অথবা পুকুর ও ভিটে ভরাট কাজে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অভিযোগ, একটি অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নির্বিঘ্নে জমির টপসয়েল কেটে পাচার করছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের নীরবতার সুযোগে এই অপকর্ম বাড়ছে বলে অভিযোগ তাদের।

কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, মাটির উপরিভাগের ৮ থেকে ১০ ইঞ্চি অংশই হলো জমির প্রাণশক্তি বা টপসয়েল। এটি কেটে নেওয়া হলে জমিতে আর ফসল উৎপাদনের সম্ভাবনা থাকে না।

চকরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহানাজ ফেরদৌসী বলেন, মাটির উপরি অংশ বা টপসয়েল ফসল উৎপাদনের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। টপসয়েল কাটার ফলে জমি তার উর্বরতা হারাচ্ছে। দিন দিন জমির উর্বরতা হ্রাস পাওয়ায় কৃষিতে ফসল উৎপাদনে ধস নামার উপক্রম দেখা দিয়েছে। এ ধরনের পরিবেশ বিধ্বংসী কর্মকাণ্ড চলতে থাকলে অদূর ভবিষ্যতে কৃষি জমির পরিমাণ কমে যাবে এবং চরম খাদ্য ঘাটতির আশঙ্কা রয়েছে।

একই শঙ্কার কথা জানান চকরিয়া উপজেলা কৃষি বিভাগের উপসহকারী কর্মকর্তা (উদ্ভিদ ও সংরক্ষণ) মো. মহিউদ্দিন। তিনি বলেন, মাটির ওপরের ৮ থেকে ১০ ইঞ্চি পর্যন্ত অংশেই থাকে মূল জৈবশক্তি। এটি একবার কেটে নেওয়া হলে ওই জমি কার্যত অনাবাদি হয়ে পড়ে।