
চট্টগ্রামের পটিয়ায় আধ্যাত্মিক সাধক আমিরুল আউলিয়া হযরত মাওলানা সৈয়দ আমিরুজ্জামান শাহর (ক.) ১৪০তম বার্ষিক ওরশ শরীফ বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত হবে। এ উপলক্ষে উপজেলার আমির ভান্ডার দরবার শরীফে লাখো ভক্তের সমাগম ঘটবে বলে আশা করছেন আয়োজকরা।
ইতিমধ্যে চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে ভক্ত, অনুরক্ত ও মুরিদরা দরবার প্রাঙ্গণে জড়ো হতে শুরু করেছেন। আমিরুল আউলিয়া দরবারের সব শাহজাদার মঞ্জিলেও একযোগে এই ওরশ অনুষ্ঠিত হবে। বার্ষিক এই আয়োজন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে যাবতীয় প্রস্তুতি শেষ করেছে আয়োজক কমিটি।
দরবার শরীফ সূত্র জানিয়েছে, ওরশ উপলক্ষে দিনের শুরুতে খতমে কোরআন ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। এরপর বিকেলে কাওয়ালি, জিয়ারত, তবরুক বিতরণ এবং সবশেষে আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটবে। অতিথিদের সুবিধার্থে স্থানীয় প্রশাসনের কাছে সহযোগিতা চেয়েছে বাস্তবায়ন কমিটি।
এদিকে ওরশের পবিত্রতা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় এবার ১১টি কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে আয়োজক কমিটি। সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে এসব নির্দেশনার কথা জানানো হয়। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ওরশের দিন এশার নামাজের আজান থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত সব মঞ্জিলে সাউন্ড সিস্টেম ও বাদ্যবাজনা সম্পূর্ণ বন্ধ রাখতে হবে। ওই সময় জিয়ারতকারীদের সুবিধার্থে কোনো হাদিয়া পশু ও দরবারে প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকবে।
এছাড়া মেমোরি কার্ড বা পেনড্রাইভের মাধ্যমে রেকর্ড বাজানো এবং ডিজে গাড়ি দরবার এলাকায় প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্বেচ্ছাসেবকরা কঠোর অবস্থানে থাকবেন। মঞ্জিলগুলোতে সেমা বা কাওয়ালির জন্য সর্বোচ্চ এক জোড়া কম শক্তিসম্পন্ন সাউন্ড সিস্টেম ব্যবহার করা যাবে, যা রাত ১১টা থেকে রাত ২টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত সীমাবদ্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ইতিহাস থেকে জানা যায়, আমিরুল আউলিয়া হযরত মাওলানা সৈয়দ আমিরুজ্জামান শাহ (ক.) ১৮৪৫ সালে (১ চৈত্র ১২৫২ বঙ্গাব্দ) পটিয়া পৌর সদরের গোবিন্দারখীল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম হযরত মাওলানা চাঁদ (র.)। কঠোর ত্যাগ-তিতিক্ষা ও সাধনার মাধ্যমে তিনি মাইজভাণ্ডারী তরিকায় বিশেষ স্থান লাভ করেন। তিনি ছিলেন তরিকায়ে মাইজভাণ্ডারীর প্রতিষ্ঠাতা হযরত গাউছুল আজম শাহ আহমদ উল্লাহ মাইজভাণ্ডারীর (ক.) অন্যতম প্রধান খলিফা।
কথিত আছে, তিনি তার মুর্শিদকে সম্মান জানিয়ে কখনও তাকে পেছনে রেখে বাড়ি ফিরতেন না, বরং উল্টো পায়ে হেঁটে ফিরতেন। মাইজভাণ্ডার শরীফে দপ বা ড্রাম বাজিয়ে জিকির মাহফিলের প্রথা তিনিই প্রথম চালু করেন। হযরত মাওলানা আজিজুল হক শেরে বাংলাও (র.) তার ‘দীওয়ানে আজীজ’ গ্রন্থে আমিরুজ্জামান শাহর মহিমা বর্ণনা করেছেন। প্রতিবছর ১ মাঘ তার দরবারে এই পবিত্র বার্ষিক ওরশ অনুষ্ঠিত হয়, যা দেশের আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক জগতে অন্যতম বড় জমায়েত হিসেবে পরিচিত।
