ছাত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু: বিদ্যুৎস্পৃষ্টের দাবি মায়ের, গলায় দাগ দেখছে পুলিশ


কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায় এক মাদরাসা ছাত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যুর দাবি করা হলেও পুলিশ বলছে, নিহত কিশোরীর গলায় রশির দাগ রয়েছে, যা সন্দেহের সৃষ্টি করেছে।

শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) সকালে উপজেলার মগনামা ইউনিয়নের মিয়াজিপাড়া এলাকা থেকে ওই কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত সায়মা আক্তার ওই এলাকার প্রবাসী ইদ্রিসের মেয়ে এবং স্থানীয় মগনামা রশিদিয়া মাদরাসার অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী ছিল।

স্থানীয় সূত্রে ও পরিবারের বরাতে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাতে খাওয়া শেষে নিজের কক্ষে ঘুমাতে যায় সায়মা। পরদিন শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে তার মা সাজেদা বেগম মেয়েকে ডাকতে গিয়ে কোনো সাড়া না পেয়ে দেখেন মেয়ে মৃত অবস্থায় পড়ে আছে।

মৃত্যুর কারণ নিয়ে এলাকায় পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে। স্থানীয় ইউপি সদস্য আমির উদ্দিন জানান, কিশোরীর মা স্থানীয়দের কাছে দাবি করেছেন, মেয়েটি রাতে মোবাইল দেখতে দেখতে ঘুমিয়ে পড়েছিল। এ সময় হয়তো বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে সে মারা গেছে। আবার স্থানীয়দের কেউ কেউ বলছেন, মেয়েটি মোবাইলে টিকটক দেখত। এ নিয়ে পরিবারের বকাঝকার জেরে সে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে থাকতে পারে।

তবে পুলিশ বলছে, মায়ের বক্তব্যের সঙ্গে মরদেহে পাওয়া আঘাতের চিহ্নের মিল নেই।

পেকুয়া থানার ওসি (তদন্ত) ইমরুল হাসান বলেন, “কিশোরীর মায়ের বর্ণনা ও মরদেহের আঘাতের চিহ্নের মধ্যে অসামঞ্জস্য রয়েছে। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হলে গলায় রশির মতো পেঁচানো দাগ থাকার কথা নয়। অথচ মেয়েটির গলার চারদিকে রশি দিয়ে পেঁচানোর মতো দাগ দেখা গেছে।”

তিনি আরও বলেন, মৃত্যুর সঠিক কারণ উদঘাটনে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে এটি হত্যা, আত্মহত্যা নাকি দুর্ঘটনা—তা নিশ্চিত হওয়া যাবে।