
চট্টগ্রামের চন্দনাইশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক দুই নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ ও মঈন উদ্দীন মাহিনের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) রাত ১১টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের বাদুরপাড়া পেট্রলপাম্প এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
হামলার প্রতিবাদে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে শনিবার (১৭ জানুয়ারি) বিকেলে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন সংগঠনটির নেতা-কর্মীরা।
হামলার শিকার হাসনাত আবদুল্লাহ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার সাবেক সংগঠক এবং মঈন উদ্দীন মাহিন সাবেক মহানগর সংগঠক। বর্তমানে তারা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনার বিষয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার সাবেক সংগঠক সাজ্জাদ হোসেন জানান, শুক্রবার রাতে হাসনাত ও মাহিন সিএনজিচালিত অটোরিকশায় পটিয়া থেকে চন্দনাইশের বাড়ি ফিরছিলেন। পথে ২০ থেকে ৩০ জনের একটি দল তাদের গতিরোধ করে লাঠিসোঁটা দিয়ে বেধড়ক পেটায় এবং ছুরিকাঘাত করে।
হামলার জন্য স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীদের দায়ী করেছেন সাজ্জাদ হোসেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, চট্টগ্রাম-১৪ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী জসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে গত ১০ জানুয়ারি চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে তারা মানববন্ধন করেছিলেন। এরপর থেকেই প্রার্থীর অনুসারীরা তাদের ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে আসছিলেন। এই হামলার ঘটনা তারই জের বলে দাবি করেন তিনি।
এদিকে হামলার প্রতিবাদে শনিবার বেলা ৩টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চন্দনাইশ উপজেলার গাছবাড়িয়া কলেজ গেট এলাকায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়। এ সময় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বিএনপি প্রার্থী জসিম উদ্দিনের প্রার্থিতা বাতিল এবং হামলায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে স্লোগান দেন। অবরোধের কারণে সড়কে যান চলাচল সাময়িক ব্যাহত হয়।
চন্দনাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইলিয়াছ খান বলেন, ঘটনার বিষয়ে আমরা শুনেছি। বিষয়টি নিয়ে ছায়া তদন্ত চলছে। তবে এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অবরোধ প্রসঙ্গে ওসি ইলিয়াছ খান জানান, কর্মসূচির কারণে ১০ থেকে ১৫ মিনিট ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ ছিল। পরে আন্দোলনকারীরা রাস্তা থেকে সরে গিয়ে সড়কের পাশে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করেন।
