ওএমআরে ত্রুটি: চবিতে ‘এ’ ইউনিটের ফল পুনযাচাই, বদলাতে পারে মেধাক্রম


চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষার ‘এ’ ইউনিটের ফলাফল পুনরায় যাচাই করা হচ্ছে। ওএমআর শিটে (উত্তরপত্র) যান্ত্রিক ত্রুটি ধরা পড়ায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর ফলে পূর্বে প্রকাশিত ফলাফলের মেধাক্রম পরিবর্তন হতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) বেলা দুইটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি সেলের পরিচালক অধ্যাপক সাইদুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, যাচাই-বাছাই শেষে আগামীকালের (রবিবার) মধ্যেই সংশোধিত ফল প্রকাশ করা হতে পারে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, গত ৭ জানুয়ারি ‘এ’ ইউনিটের ফল প্রকাশ করা হয়েছিল। কিন্তু ফল প্রকাশের পরপরই একাধিক ভর্তি পরীক্ষার্থী ফলাফলে অসঙ্গতি ও অনিয়মের অভিযোগ তোলেন। শিক্ষার্থীদের এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৪ জানুয়ারি ডিনদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করেন উপাচার্য। পরবর্তীতে গত বৃহস্পতিবার দুই উপ-উপাচার্য, ডিন এবং ভর্তি পরীক্ষা পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব এস এম আকবর হোছাইনকে নিয়ে দ্বিতীয় দফায় বৈঠক করেন উপাচার্য। ওই বৈঠকে আইসিটি সেলের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক অধ্যাপক সাইদুর রহমানও উপস্থিত ছিলেন এবং সেখানেই ফলাফল পুনরায় যাচাইয়ের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

আইসিটি সেল সূত্রে জানা গেছে, সাধারণত ওএমআর শিটে বৃত্তগুলো নির্দিষ্ট মাপ ও দূরত্বে থাকে। কিন্তু প্রাথমিক যাচাইয়ে ‘এ’ ইউনিটের ১৭টি ওএমআরে বৃত্তের মাপে তারতম্য পাওয়া গেছে। এ কারণে নির্ভুল ফল নিশ্চিতে বাকি ওএমআরগুলোও যাচাই করা হচ্ছে। বর্তমানে ফল স্থগিত রাখা হয়েছে। যাচাই প্রক্রিয়া শেষ হলে শিক্ষার্থীরা ওয়েবসাইটে তাদের সংশোধিত ফল দেখতে পারবেন।

এ বিষয়ে আইসিটি সেলের পরিচালক অধ্যাপক সাইদুর রহমান বলেন, আশানুরূপ ফল না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে অভিযোগ আসে। এর ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষা পরিচালনা কমিটি দুই দফা বৈঠক করে প্রতিটি ওএমআর আলাদা করে যাচাইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ফল যাচাইয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান বলেন, ‘এ’ ইউনিটের ফলাফলের চূড়ান্ত প্রতিবেদন এখনো তার হাতে আসেনি। তবে ফলাফলে কোনো সংশোধন এলে মেধাতালিকায় পরিবর্তন আসতে পারে।

প্রসঙ্গত, বিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান, প্রকৌশল এবং মেরিন সায়েন্সেস অ্যান্ড ফিশারিজ অনুষদ নিয়ে চবির ‘এ’ ইউনিট গঠিত। এই ইউনিটে মোট আসন রয়েছে ১ হাজার ৯৩টি। এবারের ভর্তি পরীক্ষায় এই ইউনিটে অংশ নিয়েছিলেন ৭৯ হাজার ৪১০ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে পাস করেছেন ৪১ হাজার ৬০৯ জন এবং ফেল করেছেন ৩৭ হাজার ৮০১ জন। পাসের হার ছিল প্রায় ৫২ শতাংশ।