সাতকানিয়ায় চালু হলো ডিজিটাল ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি


চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় প্রযুক্তির সহায়তায় পাঠাভ্যাস গড়ে তোলার লক্ষ্যে যাত্রা শুরু করেছে ‘মাস্টার আবদুচ ছালাম ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি’। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) বিকেলে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে ফিতা কেটে ও পর্দা উন্মোচনের মাধ্যমে ব্যতিক্রমী এই ডিজিটাল লাইব্রেরির উদ্বোধন করা হয়।

তরুণ শিক্ষানুরাগী ও সমাজকর্মী জাহেদুল ইসলামের ব্যক্তিগত পৃষ্ঠপোষকতায় এবং সামাজিক সংগঠন ‘বর্ণগ্রাম’-এর ব্যবস্থাপনায় প্রবীণ শিক্ষক মাস্টার আবদুচ ছালামের নামে এই লাইব্রেরিটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

লাইব্রেরিটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোন্দকার মাহমুদুল হাসান এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) সামছুজ্জামান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন যার নামে লাইব্রেরিটি সেই প্রবীণ শিক্ষক মাস্টার আবদুচ ছালাম, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

উদ্যোক্তারা জানান, এই ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। পাঠকরা ঘরে বসেই অনলাইনে লাইব্রেরির বইয়ের সংগ্রহ দেখতে পারবেন এবং পছন্দের বই বুকিং দিতে পারবেন। নির্ধারিত রুট অনুযায়ী লাইব্রেরির সুসজ্জিত ভ্যান পাঠকের দোরগোড়ায় বই পৌঁছে দেবে।

লাইব্রেরির স্বপ্নদ্রষ্টা জাহেদুল ইসলাম বলেন, “আমরা চাই গ্রামের প্রতিটি প্রান্তে বই পৌঁছে দিতে। স্মার্টফোনে আসক্ত বর্তমান প্রজন্মকে বইয়ের আলোয় ফেরানোই আমাদের মূল লক্ষ্য। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের মধ্যে পাঠাভ্যাস গড়ে তুলে মূল্যবোধসম্পন্ন প্রজন্ম তৈরি করতে চাই। মাস্টার আবদুচ ছালাম স্যারের আদর্শকে সামনে রেখেই এই জ্ঞান বিতরণের আন্দোলন শুরু করেছি।”

প্রাথমিক পর্যায়ে সাতকানিয়ার ছদাহা ইউনিয়নসহ আশপাশের ৭-৮টি গ্রামে পাইলটিং ভিত্তিতে এই কার্যক্রম পরিচালিত হবে। ভ্রাম্যমাণ ভ্যানটি নিয়মিত প্রধান বাজার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহ প্রদক্ষিণ করবে। কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনায় প্রতিটি স্কুলে একজন করে ‘বুক ক্যাপ্টেন’ ও একজন সমন্বয়ক শিক্ষক থাকবেন। শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে বছর শেষে সেরা পাঠকদের জন্য বিশেষ পুরস্কারের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

উদ্বোধকগণ লাইব্রেরিটির আধুনিক ব্যবস্থাপনা দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং একে দক্ষিণ চট্টগ্রামে শিক্ষার প্রসারে একটি মাইলফলক উদ্যোগ হিসেবে অভিহিত করেন। সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে শুরু হওয়া এই লাইব্রেরিটি ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ পরিসরে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান আয়োজকরা।