
চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে উপজেলায় নতুন করে আরও তিনটি সেনা ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। আগে থেকে একটি ক্যাম্প চালু থাকায় বর্তমানে মোট চারটি ক্যাম্পের মাধ্যমে পুরো উপজেলায় নিবিড় নজরদারি ও টহল কার্যক্রম শুরু করেছে সেনাবাহিনী।
সেনাবাহিনীর এই জোরালো উপস্থিতিতে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় মাদক কারবারি, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ও কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অন্যদিকে স্বস্তি ফিরেছে সাধারণ মানুষের মনে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, আগে সাতকানিয়া সরকারি কলেজে একটি সেনা ক্যাম্পের কার্যক্রম চলমান ছিল। সম্প্রতি নতুন করে বাজালিয়া অলি আহমদ ডিগ্রি কলেজ, চরতীর আদর্শ ডিগ্রি কলেজ এবং মৌলভীর দোকান এলাকার জাফর আহমেদ চৌধুরী ডিগ্রি কলেজে আরও তিনটি ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। ফলে সাতকানিয়ার ১৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা এখন সরাসরি সেনাবাহিনীর কঠোর নজরদারির আওতায় এসেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে এই অঞ্চলে মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য চরম আকার ধারণ করেছিল। বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বাজার এলাকা ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে অপরাধীদের অবাধ বিচরণে অভিভাবক ও ব্যবসায়ীরা ছিলেন শঙ্কিত। এখন চারটি পয়েন্টে সেনা ক্যাম্প স্থাপিত হওয়ায় নিয়মিত টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়বে। এতে অপরাধীরা পিছু হটতে বাধ্য হবে বলে আশা করছেন তারা।
বিষয়টি নিশ্চিত করে সাতকানিয়া সেনা ক্যাম্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন এস এম সাকিবুজ্জামান পারভেজ জানান, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৯ম ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি সাতকানিয়া সেনা ক্যাম্পের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহমুদুন্নবী পিএসসির নেতৃত্বে সেনাবাহিনীর একটি দল খাগরিয়া, কালিয়াশ, চরতি ও কেওচিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে একাধিক মতবিনিময় সভা করেছে।
তিনি বলেন, “সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণসহ সব ধরনের অপরাধ দমনে সেনাবাহিনীকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আহ্বান জানানো হয়েছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী জনগণের জানমাল রক্ষায় বদ্ধপরিকর। স্থানীয় প্রশাসন ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে আমরা কাজ করছি। যেকোনো ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’ এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।”
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোন্দকার মাহমুদুল হাসান বলেন, “সাতকানিয়ায় একটি শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। সেনা ক্যাম্প স্থাপনের ফলে অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে নিবিড় নজরদারি সম্ভব হবে। প্রশাসন, সেনাবাহিনী ও পুলিশের সমন্বিত উদ্যোগে অপরাধ দমন করা হবে।”
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রাখতে জনগণের সহযোগিতা প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি যেকোনো অপরাধসংক্রান্ত তথ্য দ্রুত প্রশাসনকে জানানোর জন্য সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানান।
