সকালে বৈধ, বিকেলে বাতিল: ফটিকছড়িতে বিএনপি প্রার্থীর কপাল পুড়ল


নির্বাচনী দৌড়ে নাটকীয় মোড় নিল চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসন। সকালে আপিল শুনানিতে বৈধতা পেলেও বিকেলে ঋণখেলাপির অভিযোগে বাতিল হয়ে গেল বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সরোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা।

রোববার (১৮ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের অডিটোরিয়ামে নির্বাচন কমিশন (ইসি) আপিল শুনানির শেষ দিনে এই সিদ্ধান্ত জানায়। এর ফলে এই আসনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীর নির্বাচনে অংশ নেওয়া নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, রোববার সকালে নির্ধারিত শুনানিতে অভিযোগকারী ও অভিযুক্ত উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনে কমিশন। এ সময় দাখিলকৃত নথিপত্র পর্যালোচনা করে কমিশন জানিয়েছিল, উত্থাপিত অভিযোগের পর্যাপ্ত আইনগত ভিত্তি না থাকায় সরোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বৈধ এবং তা বাতিলের কোনো কারণ নেই।

কিন্তু বিকেলের চিত্র ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনার আলোকে বিকেলে পুনরায় অনুষ্ঠিত শুনানিতে নির্বাচন কমিশন তাদের আগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের নেতৃত্বে কমিশন জানায়, আপিলে উপস্থাপিত যুক্তি ও ঋণখেলাপি সংক্রান্ত নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা গেছে, সরোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র নির্বাচন আইন ও বিধিমালার আলোকে গ্রহণযোগ্য নয়। ফলে তার প্রার্থিতা বাতিলের চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়া হয়।

বিএনপির এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আমরা কমিশনের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রিভিউ করার প্রস্তুতি নিচ্ছি। আশা করছি, আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই আমাদের প্রার্থীর বৈধতা ফিরে পাব।”

অন্যদিকে এই আসনে সরোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বাতিলের পর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তার প্রতিদ্বন্দ্বী ও জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমিন। তিনি বলেন, “সব ফয়সালা আল্লাহর পক্ষ থেকেই আসে। তাই আমরা কোনো প্রকার কাদা ছোড়াছুড়ি এড়িয়ে সৌহার্দ্যপূর্ণ ও শালীন আচরণ বজায় রাখি। এতেই আমাদের বড় বিজয়।”

উল্লেখ্য, গত ৪ জানুয়ারি মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের দিনে রিটার্নিং কর্মকর্তা সরোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছিলেন। তবে ঋণখেলাপির তথ্য গোপনের অভিযোগ এনে তার বিরুদ্ধে আপিল করা হয়, যার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হলো রোববার।

সরোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বাতিলের খবরে ফটিকছড়ির রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিলেও দলটির পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেওয়া হয়নি।