
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরুর আগেই চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের পদত্যাগ দাবি করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির অভিযোগ, বিএনপি মনোনীত মেয়র পদে বহাল থেকে তিনি দলীয় প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন, যা নির্বাচনের ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নষ্ট করছে।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বিকেলে নগরীর ষোলশহর বিপ্লব উদ্যানে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান দলটির নেতারা।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এনসিপি চট্টগ্রাম মহানগরের যুগ্ম সমন্বয়কারী এরফানুল হক বলেন, “আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে ডা. শাহাদাত হোসেনের বহাল থাকা নিয়ে জনমনে অস্থিরতা এবং ভোটারদের মধ্যে উদ্বেগ কাজ করছে।”
তিনি অভিযোগ করে বলেন, “বর্তমানে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকায় চারটি সংসদীয় আসনের প্রত্যেকটিতেই বিএনপির প্রার্থী রয়েছে। এই বাস্তবতায় বিএনপি মনোনীত একজন ব্যক্তি যদি মেয়র পদে বহাল থাকেন, তাহলে নির্বাচনে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ বলতে কিছু থাকে না। এটি নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।”
নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে সরকারের উপদেষ্টাদের পদত্যাগের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, “নির্বাচনে নিরপেক্ষতা রক্ষার স্বার্থে স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ ও তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম অনেক আগেই তাদের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। এই বাস্তবতায় চট্টগ্রাম সিটি মেয়রকেও পদত্যাগ করতে হবে।”
সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির অপর যুগ্ম সমন্বয়কারী আরিফ মঈনুদ্দীন বলেন, “ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে ডা. শাহাদাত হোসেনের অনেক অবদান আছে, সেজন্য তাকে আমরা সম্মান করি। তিনি আদালতের রায়ে মেয়র হয়েছেন। আমরা চাই তিনি জনগণের রায়ে আসুন।”
মেয়রের পদের মেয়াদ ও নির্বাচনী প্রচারণার সময়সীমার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “আগামী ২৭ জানুয়ারি তার পদের মেয়াদ শেষ হবে। অথচ ২২ জানুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু হবে। পদে থেকেই তিনি বিএনপির পক্ষে ভোট চাচ্ছেন এবং সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করছেন।”
মেয়র পদে থেকে দলীয় প্রচারণা চালালে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন এনসিপির এই নেতা।
