
জাল শিক্ষাগত সনদ ব্যবহার করে সরকারি চাকরি নেওয়া এবং অর্থের বিনিময়ে বা যোগসাজশে সেই সনদ ‘সঠিক’ বলে প্রতিবেদন দেওয়ার অভিযোগে পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) চার সদস্যসহ আটজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুদক চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এ সংস্থাটির সহকারী পরিচালক সাঈদ মো. ইমরান হোসেন বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন।
মামলায় অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যরা হলেন—বিশেষ শাখার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ রফিক, আব্দুল বাতেন, আতিকুর রহমান এবং সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মনির হোসেন। তারা চাকরিপ্রার্থীদের সনদ যাচাইয়ের দায়িত্বে ছিলেন।
অন্য আসামিরা হলেন—বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএফআরআই) গাড়িচালক খালেদ মোশাররফ, পরিচ্ছন্নতাকর্মী (সুইপার) স্বপন সরকার এবং নিরাপত্তাকর্মী ফরিদ আহমেদ ও আলমগীর হোসেন।
দুদক চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক সুবেল আহমেদ মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বিএফআরআইয়ের ওই চার কর্মচারী অষ্টম শ্রেণি পাসের জাল সনদ জমা দিয়ে চাকরি নিয়েছিলেন। নিয়ম অনুযায়ী পুলিশ ভেরিফিকেশনে সেই সনদ যাচাই করার কথা থাকলেও অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তারা অসৎ উদ্দেশ্যে সেগুলোকে ‘সঠিক’ বলে প্রতিবেদন দেন। ওই ভুয়া প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই তাদের নিয়োগ চূড়ান্ত হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালে বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউটে গাড়িচালক, সুইপার ও নিরাপত্তাকর্মী পদে ৪০ জন জনবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। ওই পদগুলোর জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতা ছিল অষ্টম শ্রেণি পাস। পরে নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে চারজনের সনদ জাল বলে অভিযোগ উঠলে দুদক অনুসন্ধান শুরু করে।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, সংশ্লিষ্ট চারজনের শিক্ষাগত সনদ ভুয়া হলেও পুলিশের বিশেষ শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যরা সেগুলোকে যাচাই করে আসল সনদ বলে প্রতিবেদন দাখিল করেন। এই জালিয়াতির মাধ্যমে চাকরি নিয়ে গত বছরের ২৯ জুন পর্যন্ত আসামিরা বেতন-ভাতা বাবদ সরকারি কোষাগার থেকে প্রায় ৮২ লাখ টাকা উত্তোলন করেছেন। সরকারি অর্থ আত্মসাতে পুলিশ সদস্যরা তাদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতা করেছেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
