
হাড় কাঁপানো শীত আর ঘন কুয়াশা উপেক্ষা করে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায় বোরো ধান আবাদে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। গত মৌসুমে ধানের ভালো দাম পাওয়া এবং সার-তেলসহ কৃষি উপকরণের পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় এবার কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছেন তারা। প্রতিদিন ভোরের আলো ফোটার আগেই লাঙল-কাস্তে হাতে বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠে চলছে তাদের কর্মযজ্ঞ।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলার ১৭টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় মোট ৭ হাজার ৩৪৩ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই লক্ষ্য পূরণে ৩৮৫ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরি করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রার অর্ধেকেরও বেশি জমিতে চারা রোপণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। হাইব্রিড ধানের আবাদ বাড়াতে কৃষি বিভাগ প্রণোদনা হিসেবে বিনামূল্যে ৫ হাজার কৃষককে উন্নত জাতের হাইব্রিড বীজ ও সার সরবরাহ করেছে।
সরেজমিনে উপজেলার ছদাহার ৩ নম্বর ওয়ার্ড ও বাজালিয়া বড়দুয়ারা গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, পিচঢালা সড়কের পাশের জমিতে সবুজ ধানের কচি চারার গালিচা। কোথাও গভীর নলকূপ দিয়ে সেচ চলছে, কোথাও ট্রাক্টর ও পাওয়ার টিলার দিয়ে জমি প্রস্তুত করা হচ্ছে। আবার কোথাও বীজতলা থেকে চারা তোলা হচ্ছে রোপণের জন্য।
ছদাহার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কৃষক মুস্তাফিজুর রহমান জানান, এবার ২৫ কানি জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছেন তিনি। প্রতি কানি জমিতে চাষ শেষ করতে কমপক্ষে ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা খরচ হবে। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার বিদ্যুৎ সরবরাহ ভালো আছে এবং উন্নত মানের বীজ, সার ও কীটনাশক সহজেই পাওয়া যাচ্ছে। তবে পোকা-মাকড়ের আক্রমণ হলে খরচ বেড়ে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে তার।
মুস্তাফিজুর রহমান আরও বলেন, প্রতিদিন ১০-১২ জন কৃষি শ্রমিক মাঠে কাজ করছেন। প্রচণ্ড শীতের কারণে সকালে শ্রমিকরা কাজে নামতে দেরি করছেন। এছাড়া উপজেলায় শ্রমিক সংকট থাকায় অতিরিক্ত মজুরি দিতে হচ্ছে, যা কৃষকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বাজালিয়া বড়দুয়ারা গ্রামের কৃষক আবুল কাশেম জানান, তিনি প্রায় এক একর জমিতে বোরো চাষ করছেন। তারও প্রতি কানি জমিতে চাষ শেষ করতে ৩ থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে।
সাতকানিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান জানান, গত আমন মৌসুমে সাতকানিয়ায় ১১ হাজার ৮৭৫ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছিল এবং লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি, মোট ৩৭ হাজার ৮৫৫ মেট্রিক টন চাল উৎপাদন হয়। চলতি মৌসুমে হাইব্রিড ধানের আবাদ বাড়াতে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। উচ্চ ফলনশীল এই জাতের ধানে হেক্টরপ্রতি গড় ফলন প্রায় ৬ মেট্রিক টন।
কৃষি কর্মকর্তা আরও জানান, বাজারে ইউরিয়া, ফসফেট, টিএসপি, পটাশসহ সব ধরনের সার ও সেচের জন্য প্রয়োজনীয় তেলের পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। ফলে বোরো মৌসুমে কোনো সংকটের আশঙ্কা নেই। মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও পরিচর্যার বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।
