গণভোটে ‘হ্যাঁ’ প্রচার: মাঠে সরব জামায়াত-এনসিপি, ‘অঙ্গীকারবদ্ধ’ হলেও নীরব বিএনপি


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবার হচ্ছে ভিন্ন প্রেক্ষাপটে। প্রথমবারের মতো সাধারণ নির্বাচনের সঙ্গেই পৃথক ব্যালটে অনুষ্ঠিত হচ্ছে গণভোট। ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বা সংবিধান সংস্কারের আইনি ভিত্তি দেওয়ার এই আয়োজনে অন্তর্বর্তী সরকার ও ১০ দলীয় জোট (জামায়াত-এনসিপি) জোরালোভাবে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচার চালালেও মাঠের বক্তৃতায় অনেকটা নীরব বিএনপি।

যদিও বিএনপির নীতিনির্ধারকরা বলছেন, সংস্কারের প্রশ্নে দলটির অবস্থান ইতিবাচক এবং তারা ‘হ্যাঁ’ ভোটের বিষয়ে অঙ্গীকারবদ্ধ।

আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরুর তৃতীয় দিন পেরিয়ে গেলেও বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বকে নির্বাচনী জনসভায় গণভোট নিয়ে কোনো বক্তব্য দিতে দেখা যায়নি। ২২ জানুয়ারি সিলেট থেকে সড়কপথে ঢাকায় ফেরার পথে চেয়ারম্যান তারেক রহমান একাধিক পথসভা করলেও সেখানে দলীয় প্রতীকের বাইরে গণভোট প্রসঙ্গ আসেনি। এমনকি তৃণমূলের কোনো কোনো জায়গায় বিএনপির নেতাকর্মীদের ‘না’ ভোটের পক্ষে প্রচার চালাতে দেখা গেছে, যা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।

তবে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান বলেন, “হ্যাঁ ভোটের বিষয়ে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ। কেউ নেগেটিভ ক্যাম্পেইন করছে কি না, তা আমাদের জানা নেই। সরকার তো প্রচার চালাচ্ছেই।”

বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খানও স্পষ্ট করে বলেছেন, “আমরা সংস্কারের পক্ষে। আমরা গণভোটে হ্যাঁ ভোট দেব, এটাই আমাদের সিদ্ধান্ত।”

বিপরীত চিত্র দেখা গেছে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জোটে। মিরপুর ও সিরাজগঞ্জের সমাবেশে জোটের নেতারা দলীয় প্রতীকের পাশাপাশি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন।

এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, “এবারের নির্বাচন কেবল প্রতিদ্বন্দ্বিতার নির্বাচন নয়; একটি গণভোটও। আমরা সবাই ‘হ্যাঁ’ ভোট দেব।”

সিরাজগঞ্জের জনসভায় জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান ‘হ্যাঁ’ ভোটের ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, “‘হ্যাঁ’ ভোট মানে হলো—আমূল সংস্কার, গণহত্যার বিচার এবং ফ্যাসিবাদের পথ রুদ্ধ করা।”

গণভোটের জনসচেতনতামূলক প্রচারে নেতৃত্ব দিচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার। প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ও প্রচার কার্যক্রমের মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, “আমরা লক্ষ্য করছি কিছু দল সুস্পষ্টভাবে গণভোটের পক্ষে প্রচার করছে। বিএনপি চেয়ারম্যান দীর্ঘদিন পর সরাসরি বক্তব্য দিচ্ছেন, তাই শুরুর দিকে দলের বিষয়গুলোই প্রাধান্য পাচ্ছে। আশা করছি সামনে রাজনৈতিক দলগুলো গণভোট নিয়ে আরও শক্তিশালী প্রচারে অংশ নেবে।”

এদিকে বিগত সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টি আনুষ্ঠানিকভাবে ‘না’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার মনে করেন, গণভোট নিয়ে দলগুলোর অবস্থান আরও পরিষ্কার হওয়া জরুরি। তিনি বলেন, “গণভোটে ‘না’ ভোট বিজয়ী হলে তার জন্য জাতিকে চড়া মাশুল দিতে হতে পারে।”

উল্লেখ্য, নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে। এনসিপি ইতোমধ্যে ২৩৮টি আসনে গণভোটের পক্ষে প্রচারের জন্য ‘অ্যাম্বাসেডর’ নিয়োগ দিয়েছে এবং রবিবার রাত থেকে দেশজুড়ে নির্বাচনী পদযাত্রার ঘোষণা দিয়েছে।