
চট্টগ্রামের রাউজানে গভীর নলকূপ স্থাপনের জন্য খোঁড়া অরক্ষিত গর্তে পড়ে মুহাম্মদ মেজবাহ নামে চার বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার কদলপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ জয়নগর গ্রামের বড়ুয়া পাড়া এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
ঘটনার পর ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও সেনাবাহিনীর যৌথ প্রচেষ্টায় প্রায় চার ঘণ্টা পর রাত ৮টার দিকে শিশুটিকে গর্ত থেকে উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত মেজবাহ ওই এলাকার দিনমজুর সাইফুল আলমের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সরকারি অর্থায়নে সুপেয় পানির জন্য সাইফুল আলমের বসতঘর থেকে ২০-৩০ ফুট দূরে একটি গভীর নলকূপ বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এলাকাটি টিলাভূমি হওয়ায় পানির উৎসের সন্ধানে সেখানে গভীর গর্ত খোঁড়া হয়। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সেই গর্তটি অনিরাপদ অবস্থায় ফেলে রাখা হয়েছিল। বুধবার বিকেলে খেলতে গিয়ে শিশু মেজবাহ সেই গর্তে পড়ে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শী তালেব জানান, শিশুটি পড়ে যাওয়ার পর তারা গর্তের ভেতর থেকে কান্নার শব্দ শুনতে পান। কিন্তু গর্তটি গভীর ও সরু হওয়ায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করতে ব্যর্থ হন। পরে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
রাউজান ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ শামসুল আলম জানান, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তারা উদ্ধারকাজ শুরু করেন। গর্তের গভীরতা ও মাটির অবস্থার কারণে অভিযানটি ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর রাত ৮টার দিকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়, তবে তাকে জীবিত পাওয়া যায়নি।
রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজেদুল ইসলাম বলেন, “সংবাদ পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে যাই এবং উদ্ধার তৎপরতা চালাই। ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর একটি টিমও উদ্ধারকাজে সহযোগিতা করে। দীর্ঘক্ষণ গর্তে আটকে থাকায় শিশুটিকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয় এবং হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।”
এদিকে অরক্ষিত অবস্থায় গভীর গর্ত ফেলে রাখায় সংশ্লিষ্টদের অবহেলাকে দায়ী করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
