
শখ বা প্রয়োজন মেটাতে বাবার কাছে আবদার না করে উল্টো অপহরণের নাটক সাজিয়েছিলেন এক কলেজছাত্র। উদ্দেশ্য ছিল, বাবার কাছ থেকে ‘মুক্তিপণ’ হিসেবে ৫ লাখ টাকা আদায় করে সেই টাকায় মোটরসাইকেল ও আইফোন কেনা। তবে শেষ রক্ষা হয়নি, সেনাবাহিনীর গোয়েন্দা তৎপরতায় ধরা পড়ে গেছে তার সেই সাজানো নাটক।
চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে খাগড়াছড়ির দীঘিনালায়। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে উপজেলার ছোট মেরুং এলাকা থেকে মো. মুরাদ হোসেন (১৯) নামের ওই ছাত্রকে উদ্ধার করে দীঘিনালা জোন (৪ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট ‘দি বেবী টাইগার্স’)।
মুরাদ হোসেন রাঙামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক এলাকার মো. মিলন মিয়ার ছেলে।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে কলেজে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন মুরাদ। এরপর তিনি আত্মগোপনে চলে যান এবং পরিবারের কাছে ফোন করে নিজেকে অপহরণের কথা জানিয়ে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন।
এদিকে ছেলেকে খুঁজে না পেয়ে এবং মুক্তিপণের ফোন পেয়ে আতঙ্কিত পরিবার ওই রাতেই দীঘিনালা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে এবং বিষয়টি দীঘিনালা সেনা জোনকে অবহিত করে।
দীঘিনালা জোন সূত্র জানায়, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই ৪ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু করে। প্রযুক্তির সহায়তায় ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে ছোট মেরুং এলাকায় অভিযান চালিয়ে মুরাদকে উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারের পর জিজ্ঞাসাবাদে মুরাদ স্বীকার করেন, মোটরসাইকেল ও আইফোন কেনার টাকার জন্যই তিনি অপহরণের এই নাটক সাজিয়েছিলেন। পরে তাকে নিরাপদে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এ বিষয়ে দীঘিনালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল বাহার বলেন, “মুরাদের পরিবার তাকে খুঁজে না পেয়ে রাতে থানায় জিডি করেছিল। উদ্ধারের পর জানা যায়, বাবার কাছ থেকে টাকা আদায় করতেই সে আত্মগোপনে গিয়েছিল। তাকে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।”
