‘এ দেশে নতুন করে কোনো স্বৈরাচার বা ফ্যাসিবাদের উৎপত্তি হতে দেওয়া হবে না’


বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, “সাইনবোর্ড দেখানোর জন্য একজন মুক্তিযোদ্ধাকে দলে ভিড়িয়ে জাতির সাথে প্রতারণা করতে পারবেন না। কারণ বাংলাদেশের মানুষ জানে, একটি দল ১৯৭১ সালে এ দেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল।”

শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় চকরিয়া পৌরসভার ভরামুহুরী এলাকায় হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সম্প্রীতি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি এসব কথা বলেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “বিএনপি মুক্তিযোদ্ধাদের দল। আমাদের দলেই সবচেয়ে বেশি সেক্টর কমান্ডার ও মুক্তিযোদ্ধা রয়েছে। বিএনপিই স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি এবং এই দলের প্রতিষ্ঠাতা স্বাধীনতার ঘোষক ও রণাঙ্গনের একজন মুক্তিযোদ্ধা।” তিনি আরও দাবি করেন, দেশের বড় বড় আলেম-ওলামারা আজ জামায়াতে ইসলামীর ধর্মীয় বিভ্রান্তির বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণ করে সাবেক এই যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী বলেন, “এ দেশে নতুন করে কোনো স্বৈরাচার বা ফ্যাসিবাদের উৎপত্তি হতে দেওয়া হবে না। মুক্তিযোদ্ধারা যে স্বপ্ন দেখেছিলেন, বারে বারে তাদের সেই স্বপ্ন হোঁচট খেয়েছে, গণতন্ত্র বাধাগ্রস্ত হয়েছে। আমরা আর সেদিকে যেতে চাই না। জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদ সন্তান এবং মুক্তিযোদ্ধারা যে স্বপ্ন দেখেছিলেন, সবাই ঐক্যবদ্ধ থেকে সেই স্বপ্নের বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে হবে।”

সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “এ দেশে ধর্ম-বর্ণের ভিত্তিতে কোনো বৈষম্য থাকবে না, সেটাই আমরা প্রতিষ্ঠিত করব। অতীতেও বিএনপি এ দেশের মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছিল, ভবিষ্যতেও করবে। আমাদের পরিচয় হবে একটাই—আমরা সবাই বাংলাদেশি। এ দেশ আমাদের ঠিকানা, এখানেই আমাদের জন্ম, এখানেই মৃত্যু।”

সমাবেশে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বিএনপি এ দেশের শক্তি এবং জনগণের দল।

এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন চকরিয়া পৌরসভা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক মেয়র নুরুল ইসলাম হায়দার, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ফখরুদ্দীন ফরায়জী, পৌরসভা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম আব্দুর রহিম, সাংগঠনিক সম্পাদক নুরুল আমিনসহ হিন্দু-বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।