
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস বলেছেন, নির্বাচনের আগে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার মাধ্যমে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয়েছে। প্রার্থীদের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের কথা বলা হলেও ভোটারদের নিরাপত্তা নিয়ে তেমন আলোচনা হয় না। এখন প্রশ্ন হলো, সংখ্যালঘু ভোটাররা কি নিরাপদে ভোট দিতে পারবেন? তিনি দাবি জানান, রাউজানে সংখ্যালঘু পরিবারের দরজায় বাহির থেকে হুক লাগিয়ে আগুন দেওয়ার ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষয়ক্ষতির নিরপেক্ষ মূল্যায়ন করে দ্রুত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাউজান পৌরসভা এলাকায় দুর্বৃত্তদের দেওয়া আগুনে পুড়ে যাওয়া ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বাড়িঘর পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
এর আগে সকাল ৯টায় অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌসের নেতৃত্বে নাগরিক সমাজের একটি প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। প্রতিনিধি দলটি অগ্নিসংযোগে ক্ষতিগ্রস্ত ৯টি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে পৃথকভাবে কথা বলেন এবং অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজ নেন।
পরিদর্শনকালে নাগরিক উদ্যোগের প্রধান নির্বাহী জাকির হোসেন অগ্নিসংযোগে ক্ষতিগ্রস্ত আরতি শীলের পোড়াভিটায় সাংবাদিকদের বলেন, নির্বাচনের আগে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। প্রশাসনের উচিত দ্রুত ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নেওয়া এবং প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা।
ব্লাস্ট চট্টগ্রাম ইউনিটের স্টাফ আইনজীবী তাসনিয়া আল সুলতানা আইনি প্রক্রিয়ার ধীরগতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বাড়ি পোড়ানোর একটি মামলার পুলিশ প্রতিবেদন নির্ধারিত সময়ে দাখিল হয়নি। এভাবে বিলম্ব হলে বিচার প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে।
প্রতিনিধি দলে আরও উপস্থিত ছিলেন কবি ও সাংবাদিক হাফিজ রশিদ খান, মানবাধিকার কর্মী দীপায়ন খীসা, বাংলাদেশ আদিবাসী যুব ফোরামের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক সতেজ চাকমা, আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য অনুসন্ধান কর্মকর্তা তাওহীদ আহমেদ রানা এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক প্রিয় জ্যোতি চাকমা রিবেক।
এ সময় স্থানীয়দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রাউজান পৌরসভা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সদীপ দে (সজীব) ও সাধারণ সম্পাদক দীপ্ত চৌধুরীসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
জানা যায়, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর রাউজানে ৯টি বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। বর্তমানে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক মনে হলেও আতঙ্ক কাটেনি। স্থানীয়রা এখনো রাত জেগে গ্রাম পাহারা দিয়ে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছেন।
