একুশে পত্রিকায় সংবাদের জেরে টনক নড়ল প্রশাসনের, ভরাট হলো সেই মরণকূপ


‘বাবা আমাকে তোলো, নিথর শিশুর শেষ আকুতি’—গত ২৯ জানুয়ারি সন্ধ্যায় একুশে পত্রিকায় এই শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর টনক নড়েছে প্রশাসনের। সংবাদ প্রকাশের পরদিন, ৩০ জানুয়ারি সকালেই রাউজানে শিশু মিশবাহর প্রাণ কেড়ে নেওয়া সেই নলকূপের পরিত্যক্ত গর্তটি ভরাট করেছে উপজেলা প্রশাসন ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ।

প্রশাসনের এই দ্রুত পদক্ষেপে সন্তোষ প্রকাশ করলেও স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, পাহাড়ের টিলায় অবস্থিত এই গুচ্ছগ্রামটি এখনো ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। তারা সেখানে বসবাসরত শিশু ও বৃদ্ধদের নিরাপত্তার স্বার্থে পাহাড়ের চারপাশে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।

রাউজান উপজেলা প্রশাসন ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালে এই আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকায় নলকূপ স্থাপনের কাজ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স আঁখি ইন্টারন্যাশনাল’। সে সময় পানির স্তর না পাওয়ায় তারা গর্তটি পরিত্যক্ত অবস্থায় ফেলে রাখে, যা পরবর্তীতে মাটি সরে গিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ মরণফাঁদে পরিণত হয় এবং শিশু মিশবাহর প্রাণহানির কারণ হয়।

এ বিষয়ে উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী রহমত উল্লাহ বলেন, “পানির স্তর না পাওয়ায় গর্তটি পরিত্যক্ত হয়েছিল। টিলা ও সমতল ভূমির কারণে মাটি সরে গিয়ে গর্তটি আবার ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। আমরা বিষয়টি জানার পর সেটি সম্পূর্ণ ভরাট করে নিরাপদ করে দিয়েছি।”

রাউজান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস. এম. রাহাতুল ইসলাম বলেন, “ওই গুচ্ছগ্রামের সব শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিতে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছি।”

এদিকে, স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গর্তটি ভরাট করায় তাৎক্ষণিক বিপদ কাটলেও টিলার ওপর অবস্থিত এই আবাসনে সীমানা প্রাচীর না থাকায় ঝুঁকি রয়েই গেছে। যেকোনো সময় আবারও বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই দ্রুত সীমানা প্রাচীর নির্মাণের দাবি জানান তারা।