মহেশখালী হবে সিঙ্গাপুরের চেয়েও উন্নত : জামায়াত আমির


বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, “একসময় যারা মুখ লুকিয়ে ছিলেন, কোনো কথা বলতেন না, এখন তারা বাধ্য হয়ে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে কথা বলছেন। কিন্তু আমরা চাই, মুখের কথাই যেন তাদের বুকের কথা হয়। ‘হ্যাঁ’-এর বিপক্ষে যারা অবস্থান নেবেন, বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষ ধরে নেবে—তারা আবার ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে চান। আবার পরিবারকেন্দ্রিক স্বৈরতান্ত্রিক শাসন বাংলাদেশে চালু করতে চান।”

আজ সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে কক্সবাজারের মহেশখালী পৌরসভার গোরকঘাটা আদর্শ উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিগত সরকারের সময়ে অর্থ পাচারের প্রসঙ্গ টেনে জামায়াত আমির বলেন, “বাংলাদেশের যে পরিমাণ টাকা লুণ্ঠন করে বিদেশে পাচার করা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে সেটা ২৮ লাখ কোটি টাকা। যা বাংলাদেশের বার্ষিক বাজেটের চার গুণ। এই টাকা চোর, ডাকাত ও লুণ্ঠনকারীরা চুরি করে বিদেশে পাঠিয়ে দিয়েছে। আমরা আপনাদের কথা দিচ্ছি—ওদের পেটের ভেতরে হাত ঢুকিয়ে সেই টাকা বের করে আনব এবং তা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা হবে।”

তিনি আরও বলেন, দুর্নীতিবাজ, চাঁদাবাজ, ঋণখেলাপি ও ব্যাংক ডাকাতদের নেতৃত্ব দিয়ে আগামীর বাংলাদেশ হবে না। হামাগুড়ি দিয়ে খুঁড়িয়ে চলা বাংলাদেশ আমরা চাই না।

যুবকদের উদ্দেশ্যে শফিকুর রহমান বলেন, “যুবসমাজ বেকার ভাতা চায় না, তারা কাজ চায়। আমরা যুবসমাজের হাতে অপমানজনক বেকার ভাতা তুলে দেব না, সম্মানের কাজ তুলে দেব। মহেশখালী-কুতুবদিয়া সেই কাজের একটি ‘পটেনশিয়াল’ জায়গা। এখানকার মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর কেন্দ্র করে আমরা সিঙ্গাপুর কিংবা হংকংয়ের চেয়েও ভালো জায়গায় যেতে পারব। মহেশখালীকে একটি স্মার্ট ইকোনমিক জোন হিসেবে গড়ে তোলা হবে।”

জামায়াত আমির বলেন, “আমরা জামায়াতে ইসলামীর বিজয় চাই না, আমি ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চাই। ১৮ কোটি মানুষের বিজয় হলে সবার বিজয় হবে। আর দল, পরিবার বা গোষ্ঠীর বিজয় হলে জাতির ওপর তাণ্ডব চালানো হবে। ধিক্কার জানাই ওই বিজয়কে।”

এর আগে দুপুর পৌনে ১২টায় তাকে বহনকারী হেলিকপ্টারটি মহেশখালীতে অবতরণ করে। জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হামিদুর রহমান আযাদ।

জনসভায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, জাগপা, এনসিপি, এলডিপি, এবি পার্টি ও লেবার পার্টির নেতারা উপস্থিত ছিলেন। মহেশখালীর জনসভা শেষে তিনি কক্সবাজার শহর, লোহাগাড়া, সীতাকুণ্ড এবং চট্টগ্রাম নগরের বন্দর এলাকায় আরও চারটি জনসভায় বক্তব্য রাখবেন।