
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে জোরালো জনমত গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ড. শফিকুর রহমান। তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলেছেন, একসময় যারা ভয়ে মুখ লুকিয়ে ছিলেন, প্রকাশ্যে কোনো অবস্থান নিতে সাহস পাননি, তারাও আজ পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়ে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে কথা বলতে শুরু করেছেন। এটি সময়ের দাবি। ‘হ্যাঁ’ ভোট মানেই মুক্তির পথে এগিয়ে যাওয়া আর ‘না’ ভোট মানেই পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ থাকা।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) মহেশখালী উপজেলার বড় মহেশখালী ইউনিয়নের নতুন বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যজোটের বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জামায়াত আমির তার বক্তব্যে দেশের তরুণ সমাজের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানান। তিনি বলেন, দেশের যুবসমাজ দীর্ঘদিন ধরে ন্যায়বিচার, নিরাপত্তা ও মর্যাদার সঙ্গে বাঁচার দাবি জানিয়ে আসছে। মা-বোনদের জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ গড়া, শিশুদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ সৃষ্টি এবং বিশ্ব দরবারে মর্যাদার সঙ্গে দাঁড়ানোর লক্ষ্যেই ‘হ্যাঁ’ ভোট প্রয়োজন। বিশেষ করে তরুণ সমাজের প্রথম ভোটটি যেন ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষেই পড়ে, সেই আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে উপস্থিত জনতাকে পরিবার, আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী ও সহকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে গণজোয়ার তৈরির নির্দেশনা দেন।
বিরোধী শক্তির প্রতি ইঙ্গিত করে ড. শফিকুর রহমান বলেন, যারা ‘হ্যাঁ’ ভোটের বিরোধিতা করবে, দেশের মানুষ তাদের অবস্থান স্পষ্টভাবে বুঝে নেবে। জনগণ ধরে নেবে যে, তারা আবারও দমনমূলক শাসনব্যবস্থা, পরিবারতান্ত্রিক ও স্বৈরতান্ত্রিক শাসন কায়েম করতে চায়। গত দেড় দশকের শাসনামলে তরুণদের কণ্ঠে যে ন্যায্যতার দাবি উঠেছিল, সেটিই আজ নতুন বাংলাদেশ গঠনের মূল ভিত্তি।
মহেশখালীর উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের যে অঞ্চল যত বেশি পিছিয়ে পড়েছে, সেই অঞ্চলকেই অগ্রাধিকার দিয়ে উন্নয়নের মূল ধারায় আনা হবে। মহেশখালী একটি অপার সম্ভাবনাময় এলাকা। পরিকল্পিত উদ্যোগ নিলে এখান থেকে দেশের অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখা সম্ভব। তাই নির্বাচিত হলে মহেশখালীকে একটি আধুনিক ‘স্মার্ট ইকোনমিক জোন’-এ রূপান্তর করা হবে। এতে যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে এবং তাদের আর কর্মহীনতা বা বেকার ভাতা নিয়ে চিন্তা করতে হবে না।
তিনি আরও বলেন, এখানে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান—সবাই একসঙ্গে কাজ করবে। এখানে দল বা ধর্ম নয়, গুরুত্ব পাবে দক্ষতা ও দেশপ্রেম। এই চেতনা নিয়েই একটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
জনসভায় মহেশখালী-কুতুবদিয়া আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদকে জনগণের সামনে পরিচয় করিয়ে দিয়ে ড. শফিকুর রহমান বলেন, আপনাদের হাতে হামিদুর রহমানকে তুলে দিয়ে গেলাম। আপনারা সবাই দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিন, আমরা আপনাদের আস্থার প্রতিদান দেব। চুরি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও লুণ্ঠনের রাজনীতি বন্ধ করে স্বচ্ছ ভোটের মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশ গড়া হবে। জামায়াতে ইসলামীর বিজয় নয়, বরং দেশের ১৮ কোটি মানুষের সম্মিলিত বিজয়ই আমাদের লক্ষ্য।
এর আগে দুপুর পৌনে ১২টার দিকে মহেশখালী পৌরসভার গোরকঘাটা আদর্শ উচ্চবিদ্যালয় মাঠে জামায়াত আমিরকে বহনকারী হেলিকপ্টারটি অবতরণ করে। সেখানে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থক তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। পরে সেখান থেকে তিনি সরাসরি জনসভাস্থলে যোগ দেন।
জনসভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কক্সবাজার-২ আসনের প্রার্থী হামিদুর রহমান আযাদ। এছাড়া ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের শরিক দলগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা), জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি), আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি ও বাংলাদেশ লেবার পার্টির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
