
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র নয় দিন বাকি। এর আগেই চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে একটি ভোটকেন্দ্রে চুরির ঘটনা ঘটেছে। চোরেরা কেন্দ্রটির সিসিটিভি ক্যামেরার এনভিআর (নেটওয়ার্ক ভিডিও রেকর্ডার) ও মনিটরসহ গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা সরঞ্জাম এবং বিদ্যালয়ের মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে।
গত ২৯ জানুয়ারি থেকে ২ ফেব্রুয়ারি ভোরের যেকোনো সময় উপজেলার মাইজভান্ডার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। আসন্ন নির্বাচনে এটি উপজেলার ১০৫ নম্বর ভোটকেন্দ্র হিসেবে নির্ধারিত।
ঘটনার পর বিদ্যালয়ের নৈশপ্রহরী মো. জোবায়েরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়েছে পুলিশ। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, নৈশপ্রহরীর চরম অবহেলা ও অনুপস্থিতির সুযোগেই এই চুরির ঘটনা ঘটেছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আহমদ হোসেন মুফতি জানান, “গত ২৯ জানুয়ারি (বৃহস্পতিবার) বিকেল ৪টায় ছুটির পর শুক্র, শনি ও রোববার বিদ্যালয় বন্ধ ছিল। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকালে বিদ্যালয়ে এসে দেখি একাধিক কক্ষের তালা ভাঙা। ভেতরে গিয়ে দেখা যায়, নির্বাচনী নিরাপত্তার জন্য সম্প্রতি লাগানো সিসিটিভি ক্যামেরার এনভিআর, রাউটার ও মনিটর নেই।”
তিনি আরও জানান, শুধু নির্বাচনী সরঞ্জামই নয়, চোরেরা বিদ্যালয়ের আইপিএস, ব্যাটারি, কম্পিউটারের মাউস, কি-বোর্ড, সাউন্ড বক্স, চেক বই এবং বিদ্যালয়ের ঘণ্টাসহ নানান সরঞ্জাম নিয়ে গেছে। এছাড়া অফিসের প্রয়োজনীয় নথিপত্র তছনছ করা অবস্থায় পাওয়া গেছে।
প্রধান শিক্ষক অভিযোগ করে বলেন, “দায়িত্ব থাকা সত্ত্বেও বিদ্যালয়ের নৈশপ্রহরী মো. জোবায়ের গত চার দিন বিদ্যালয়ে ছিলেন না। তার অনুপস্থিতিতেই এই চুরির ঘটনা ঘটেছে। আমরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি নিজের দোষ স্বীকার করেছেন। রাষ্ট্রের এতবড় ক্ষতির দায় তিনি এড়াতে পারেন না।”
খবর পেয়ে ফটিকছড়ি থানার একদল পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সেলিম বলেন, “পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনার সময় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে বিদ্যালয়ের নৈশপ্রহরী মো. জোবায়েরকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এ ঘটনায় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ লিখিত অভিযোগ দিলে নিয়মিত মামলা রুজু করা হবে।”
ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীম বলেন, “বিষয়টি আমরা জেনেছি এবং অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অল্প সময়ের মধ্যেই সেখানে নতুন এনভিআরসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম বসিয়ে ক্যামেরাগুলো সচল করা হবে।”
