বেকার ভাতা দিয়ে অপমান নয়, যুবকদের হাতে মর্যাদার কাজ তুলে দেব: লোহাগাড়ায় ডা. শফিকুর


বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, “২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবে এ দেশের যুবকরা একবারও বলেনি—আমাদের বেকার ভাতা চাই। তারা বলেছে—আমাদের মেধা ও যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ চাই। আমরা এই যুবক-যুবতীদের বেকার ভাতা দিয়ে অপমান করব না। শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও যোগ্যতা অনুযায়ী তাদের হাতে মর্যাদার কাজ তুলে দেব।”

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার ঐতিহাসিক পদুয়া হাই স্কুল মাঠে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জুলাই বিপ্লবের শহীদদের স্মরণ করে জামায়াত আমির আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “আবু সাঈদরা আমাদের বলে গেছে—আল্লাহর দেওয়া সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ জীবন আমরা দিয়ে গেলাম। আমাদের লাশ তোমাদের কাঁধে, রক্ত তোমাদের হাতে। আমাদের লাশের সঙ্গে বেইমানি করো না। আমরা জুলাইয়ের শহীদ ও যোদ্ধাদের কাছে কথা দিচ্ছি—ইনশাআল্লাহ আমরা কখনো বেইমানি করব না। প্রয়োজনে আমাদের জীবন দেব, কিন্তু জুলাই কাউকে দেব না।”

তিনি আরও বলেন, “বুক চিতিয়ে যুদ্ধ করে, গুলি উপেক্ষা করে যারা বাংলাদেশকে নতুন করে রাস্তায় নামিয়েছে—সেই যুবকরাই আগামীর বাংলাদেশ গড়বে।”

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “সাড়ে ১৫ বছর আমরা সবাই মজলুম ছিলাম। কিন্তু ৫ আগস্টের পর কিছু লোক জালিম হয়ে উঠেছে। তারা রাস্তাঘাট, স্ট্যান্ড, শিল্পকারখানা ও ঘরে ঘরে চাঁদাবাজি শুরু করেছে। আমরা লেজ ধরে নয়, কান ধরে টান দেব। ১৩ তারিখ থেকে ইনশাআল্লাহ নতুন বাংলাদেশ শুরু হবে, সেদিন থেকে চাঁদাবাজির দিন শেষ।”

সমাবেশে এলডিপি চেয়ারম্যান ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, “জামায়াত নিষিদ্ধের রায় ঘোষণার পর সর্বপ্রথম প্রতিবাদী বিবৃতি দিয়েছিলেন কর্নেল অলি আহমদ। বিএনপিসহ যারা তখন প্রতিবাদ করেছে, আমরা তাদের কাছে কৃতজ্ঞ।”

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল আলম চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি অধ্যক্ষ বদরুল আলমের সঞ্চালনায় জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন খেলাফত মজলিস দক্ষিণ জেলা আমির মাওলানা মাহবুবুর রহমান, লেবার পার্টির সভাপতি ড. মজনু মিয়া, রাঙামাটি জেলা আমির আবদুল আলিম, বান্দরবান জেলা আমির আবদুস সালাম, বাঁশখালীর প্রার্থী অধ্যক্ষ জহিরুল ইসলাম, সাতকানিয়া উপজেলা আমির মাওলানা কামাল উদ্দীনসহ ১১ দলীয় জোটের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা।