নামে বাণিজ্যিক রাজধানী, কাজে ফকফকা: চট্টগ্রামে জামায়াত আমির


এক হাতে ফ্যামিলি কার্ড, আরেক হাতে মায়ের গায়ে হাত—এমন রাজনীতির অভিযোগ এনে তীব্র সমালোচনা করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেছেন, রাখ তোদের ফ্যামিলি কার্ড। আমার মায়ের মর্যাদার চাইতে ওই ফ্যামেলি কার্ড নস্যি, এর দুই পয়সার কোনো গুরুত্ব নাই। আগে আমার মায়ের মর্যাদা, তারপর তোদের ফ্যামেলি কার্ড। আমরা জাতিকে আলহামদুলিল্লাহ গর্বিত জাতি হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। কারো কার্ডের ধার এ জাতি ধরবে না।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাতে চট্টগ্রাম নগরীর বন্দর স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে আয়োজিত বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান সাম্প্রতিক সংঘাতের প্রসঙ্গ টেনে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আমাদের মায়েদের গায়ে হাত দিচ্ছো—আগুন জ্বলে উঠবে। এ আগুন কেউ নিভাতে পারবে না। আমাদের ঠকাতে পারবে না, ভয়ভীতি দেখিয়ে আমাদের গতিপথ পরিবর্তন করতে পারবে না। আলটিমেট মঞ্জিলে না যাওয়া পর্যন্ত ইনশাআল্লাহ আমরা থামব না।

বেকার ভাতার পরিবর্তে কর্মসংস্থানের ওপর জোর দিয়ে জামায়াত আমীর বলেন, এই যুবসমাজ কারো কাছে গিয়ে ভিক্ষা চায়নি, বেকার ভাতা চায়নি। তারা বলেছে—আমাদের হাতে কাজ দাও, আমরা কাজ করতে চাই, দেশ গড়তে চাই। আমরা যুবসমাজকে কথা দিচ্ছি—বেকার ভাতা দিয়ে তোমাদের অসম্মানিত করব না। প্রশিক্ষণ দিয়ে দেশ গড়ার কারিগর হিসেবে গড়ে তুলব।

তিনি রূপক অর্থে বলেন, আমরা বাংলাদেশ নামের একটি উড়োজাহাজের ককপিটে এই যুবসমাজকে ক্যাপ্টেন হিসেবে বসাতে চাই। সেই উড়োজাহাজের প্যাসেঞ্জার সিটে আমরা বসে থাকতে চাই। এরা এই উড়োজাহাজ চালিয়ে জাতিকে সামনের দিকে নিয়ে যাবে।

আগামী ১২ তারিখের গণভোট প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ১২ তারিখের ভোট হচ্ছে জুলাই বিপ্লবকে বুকে আঁকড়ে ধরার জন্য ‘হ্যাঁ’ ভোট। যারা জুলাই মানে না, তাদের জন্য আবার কিসের নির্বাচন? ঠেলা খাইলে নাকি বাবা ঠিক হয়। প্রথমে যারা না ভোট বলেছিল, এখন দেখেন—সারাদেশ ঐক্যজোট হ্যাঁ-এর পক্ষে। এখন আস্তে আস্তে বলতে শুরু করেছে—আমরা গণভোটে হ্যাঁ ভোট দেব। আমরা দোয়া করি, তাদের মুখের কথাটা যেন বুকের কথাই হয়।

চট্টগ্রামের উন্নয়ন বঞ্চনা ও বন্দরের দুর্নীতি নিয়ে তিনি বলেন, চট্টলার বাসীর একটি ঐতিহ্য আছে। অনেকে আক্ষেপ করে বলেছেন—নামে বাণিজ্যিক রাজধানী, কাজে ফকফকা। কিছু মানুষ যুগ যুগ ধরে এই বন্দর বিক্রি করে কপাল বানিয়েছে। আগামীতে এ সুযোগ আর দেওয়া হবে না। আগামীতে এই বন্দর জনগণের হবে।

জনসভায় তিনি ১৮ কোটি মানুষের বিজয় নিশ্চিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এবং সব ধর্মের মানুষকে নিয়ে একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি দেন।