
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে জুলাই গণ–অভ্যুত্থান–পরবর্তী সময়ে সারা দেশে মোট ৬৬৩টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪৫৩টিই হত্যা মামলা। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর ধানমন্ডিতে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।
‘কর্তৃত্ববাদ পতন-পরবর্তী দেড় বছর: প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শিরোনামে প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদনে টিআইবি জানায়, ২০২৫ সালের ১৯ নভেম্বর পর্যন্ত সারা দেশে জুলাই গণ–অভ্যুত্থান সংশ্লিষ্ট মোট ১ হাজার ৭৮৫টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে ৮৩৭টি হত্যা মামলা।
প্রতিবেদনে বলা হয়, জুলাই অভ্যুত্থানে ছাত্র–জনতা হত্যাকারী, নির্দেশদাতা ও ইন্ধনদাতাদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলোর মধ্যে ৬৬৩টিতে আসামি হিসেবে নাম এসেছে শেখ হাসিনার। এছাড়া আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এ পর্যন্ত ৪৫০টি অভিযোগ জমা পড়েছে, যার মধ্যে মামলা হয়েছে ৪৫টি। এসব মামলায় শেখ হাসিনাসহ ২০৯ জনকে আসামি করা হয়েছে। বর্তমানে ট্রাইব্যুনালে ১২টি মামলা বিচারাধীন।
মামলার সংখ্যার তুলনায় তদন্তের অগ্রগতি হতাশাজনক বলে উল্লেখ করেছে টিআইবি। সংস্থাটি জানায়, এ পর্যন্ত মাত্র ১০৬টি মামলায় অভিযোগপত্র জমা পড়েছে, যার মধ্যে হত্যা মামলা ৩১টি। এসব মামলায় আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যসহ ১২৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে পুলিশের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার চিত্রও তুলে ধরা হয়। পুলিশের বিরুদ্ধে ৭৬১টি মামলা হয়েছে, যেখানে ১ হাজার ১৬৮ জন পুলিশ সদস্যকে আসামি করা হয়েছে। তবে তাদের মধ্যে গ্রেপ্তার হয়েছেন মাত্র ৬১ জন। পুলিশ সদস্যদের কর্মকাণ্ডের জন্য বিভাগীয় ব্যবস্থার বাইরে কার্যকর জবাবদিহি নেই বলেও মন্তব্য করা হয়।
গণ–অভ্যুত্থানের পর নির্বিচার মামলা দায়ের ও ঢালাওভাবে আসামি করা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে টিআইবি। সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী, এসব মামলায় সারা দেশে প্রায় দেড় লাখ মানুষকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে গ্রেপ্তার হয়েছেন ২১ হাজার ৮৫৪ জন।
প্রতিবেদনে ‘মামলা ও গ্রেপ্তার–বাণিজ্য’, প্রতিশোধমূলক মামলা, রাজনৈতিক হয়রানি এবং নাম অন্তর্ভুক্ত বা বাদ দেওয়ার ভয় দেখিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়। টিআইবি বলছে, অনেক ক্ষেত্রে চাপের মুখে তদন্ত ছাড়াই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মামলা গ্রহণ করেছে। এছাড়া সাংবাদিক ও পেশাজীবীদের হত্যা মামলায় আসামি করার মতো পুরোনো ধারা এখনো বিদ্যমান রয়েছে।
টিআইবির প্রতিবেদনে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে আসামিদের দেশত্যাগ নিয়ে। বলা হয়েছে, অনেক আসামি গোপনে দেশত্যাগ করেছেন। তাদের দেশত্যাগে সেনাবাহিনী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের কেউ কেউ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সহায়তা করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামানের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন টিআইবির সিনিয়র রিসার্চ ফেলো শাহজাদা এম আকরাম, মো. জুলকারনাইন, রিসার্চ ফেলো ফারহানা রহমান প্রমুখ।
