যাত্রী সেজে সিএনজিতে শিক্ষিকাকে জিম্মি, চোখে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে স্বর্ণ ও টাকা লুট


চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে সিএনজি অটোরিকশায় যাত্রী বেশে থাকা ছিনতাইকারী চক্রের কবলে পড়ে সর্বস্ব হারিয়েছেন স্বরচিতা রায় (৫৬) নামের এক স্কুলশিক্ষিকা। ছিনতাইকারীরা ওই শিক্ষিকাকে জিম্মি করে নগদ টাকা, মোবাইল ফোন ও স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেওয়ার পর চোখে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে নির্জন স্থানে ফেলে পালিয়ে যায়।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে চট্টগ্রাম-ফটিকছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়কের মির্জাপুর ইউনিয়নের চারিয়া বোর্ড স্কুল থেকে কাটিরহাট বাজার এলাকার মধ্যবর্তী স্থানে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী শিক্ষিকার স্বামী রিটন চৌধুরী মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এবং হাটহাজারী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সোমবার বিকেলে বিদ্যালয় ছুটি শেষে ওই শিক্ষিকা চট্টগ্রাম শহরের বাসায় ফেরার উদ্দেশ্যে সরকারহাট বাজার থেকে একটি সিএনজিতে ওঠেন। নাজিরহাটের দিক থেকে আসা ওই গাড়িতে আগে থেকেই চালকসহ ৫ জন পুরুষ যাত্রী ছিল। পেছনের সিটে জায়গা থাকায় তিনি সেখানে বসেন। গাড়িটি চারিয়া বোর্ড স্কুলের সামনে পৌঁছালে একজন যাত্রী নামার কথা বলে গাড়ি থামাতে বলেন।

ঠিক তখনই সিএনজিতে থাকা যাত্রীদের একজন ওই শিক্ষিকার কোলে বসে পড়েন এবং অন্য দুজন দুই পাশ থেকে তার হাত চেপে ধরেন। চালক গাড়িটি ঘুরিয়ে উল্টো পথে পুনরায় কাটিরহাটের দিকে চালাতে থাকেন। চলন্ত গাড়িতেই দুর্বৃত্তরা তার ব্যাগে থাকা একটি অ্যান্ড্রয়েড ও একটি বাটন ফোন এবং নগদ ২-৩ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। এছাড়া তার হাতে থাকা ৪ আনা ওজনের স্বর্ণের আংটি ও ১২ আনা ওজনের স্বর্ণ দিয়ে বাঁধানো দুটি শাঁখাসহ প্রায় ১ ভরি স্বর্ণালংকার (যার আনুমানিক মূল্য আড়াই লাখ টাকা) জোরপূর্বক খুলে নেয়।

ছিনতাই শেষে দুর্বৃত্তরা ভুক্তভোগীর চোখে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে দিয়ে তাকে বালুরটাল নামক নির্জন এলাকায় ফেলে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় পথচারীরা তাকে উদ্ধার করেন।

ভিকটিমের স্বামী রিটন চৌধুরী বলেন, এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তবে এখনো পর্যন্ত দুষ্কৃতকারীদের কাউকে শনাক্ত বা গাড়িটি চিহ্নিত করার কোনো খবর আমরা পাইনি। পুলিশ সোমবার রাতে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। আমরা জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

এ বিষয়ে হাটহাজারী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাহিদুর রহমান বলেন, ভিকটিমের কাছ থেকে স্বর্ণ নিতে পারেনি বলে প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে। তবে যেহেতু একটি ঘটনা ঘটেছে, পুলিশ এটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে। অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন ঘটনার শিকার না হন।