সুযোগ থাকলেও প্রতিশোধ নেইনি, ইনসাফের রাজনীতিতে বিশ্বাসী: শাহজাহান চৌধুরী


সাতকানিয়া ও লোহাগাড়াকে একটি সমৃদ্ধ এবং আদর্শ জনপদ হিসেবে গড়ে তুলতে এলাকাবাসীর সহযোগিতা ও ভোট চেয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য এবং জাতীয় সংসদের সাবেক প্যানেল স্পিকার ও হুইপ আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরী।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সাতকানিয়া উপজেলার নলুয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে দিনব্যাপী গণসংযোগ ও পথসভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এই আহ্বান জানান।

শাহজাহান চৌধুরী বলেন, “আমি এই এলাকা থেকে অতীতে দুইবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলাম। আল্লাহ সাক্ষী, আমি জনগণের সঙ্গে করা কোনো প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করিনি। এমপি থাকাকালীন বরাদ্দ পাওয়া উন্নয়ন তহবিলের প্রতিটি টাকার হিসাব আমি একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশ করেছিলাম, যা বাংলাদেশের রাজনীতিতে স্বচ্ছতার এক বিরল উদাহরণ।”

গত দেড় দশকের রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে সাবেক এই হুইপ বলেন, “গত ১৭ বছর ধরে আমাদের ওপর অবর্ণনীয় দমন-পীড়ন চালানো হয়েছে। রাজনৈতিক কার্যক্রমে বাধা, মিথ্যা মামলা, হামলা ও নির্যাতনের মাধ্যমে আমাদের দমিয়ে রাখার চেষ্টা হয়েছে। আমাদের অনেক নেতাকর্মী প্রাণ হারিয়েছেন, অনেকে চিরতরে পঙ্গু হয়েছেন। কিন্তু ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর সুযোগ থাকা সত্ত্বেও আমরা প্রতিশোধের রাজনীতি করিনি। কারণ আমরা ন্যায়বিচার ও ইনসাফভিত্তিক রাজনীতিতে বিশ্বাসী।”

আগামীর সাতকানিয়া-লোহাগাড়া নিয়ে নিজের স্বপ্নের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমরা দুর্নীতিমুক্ত, বৈষম্যহীন ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠন করতে চাই। যেখানে মানুষের জান-মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে, তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, কৃষক ফসলের ন্যায্যমূল্য পাবেন এবং নারীরা সম্মানের সঙ্গে চলতে পারবেন।”

তিনি উন্নয়ন, শান্তি ও সমৃদ্ধির পক্ষে থাকতে আগামী নির্বাচনে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে ভোট দেওয়ার জন্য ভোটারদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।

গণসংযোগ ও পথসভায় আরও বক্তব্য রাখেন লোহাগাড়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট ফরিদ উদ্দিন খাঁন, সাতকানিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মুহাম্মদ জসিম উদ্দিন, নলুয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল করিম, সাতকানিয়া জামায়াতের সমাজসেবা বিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, যুব বিষয়ক সম্পাদক আইয়ুব আলী এবং নলুয়া ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি মাওলানা কামাল উদ্দিন।

এ সময় বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলাম, সৈয়দ আহমদ, আব্দুস সাত্তার ও মাওলানা আবুল কাশেমসহ স্থানীয় জামায়াত ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মী এবং বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।