জামায়াত আমিরের মতো নেতা গত ৩০ বছরেও দেশে আসেনি: অলি আহমদ


লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম বলেছেন, একসময় আমি মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে বাংলাদেশ স্বাধীন করার সংগ্রাম করেছি। আজ জীবনের শেষ বয়সে এসে যে সংগ্রাম করছি, তা হলো দালালমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত ও চাঁদাবাজমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা। সুশাসন, ন্যায়বিচার এবং সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকার প্রতিষ্ঠাই আমাদের এই শেষ বয়সের লক্ষ্য।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার উত্তর রাঙ্গুনিয়া কলেজ মাঠে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আসন্ন নির্বাচনে ১১ দলীয় জোট সমর্থিত ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের সংসদ সদস্য প্রার্থী ডা. এটিএম রেজাউল করিমের সমর্থনে এই সভার আয়োজন করা হয়।

কর্নেল অলি আহমদ তার বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর আমিরের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের মতো নেতা গত ৩০ বছরেও দেশে আসেননি। তিনি বড় মনের মানুষ, অহংকারী নন এবং খুব সহজেই মানুষকে আপন করে নিতে পারেন। আমরা চাই মৃত্যুর আগে এমন নেতৃত্বের হাত ধরে একটি সুন্দর বাংলাদেশ রেখে যেতে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী ১২ তারিখের নির্বাচনের পর এগারো দলীয় ঐক্যজোটই সরকার গঠন করবে।

প্রবীণ এই রাজনীতিবিদ বলেন, উন্নত চিকিৎসার জন্য মানুষকে দেশের বাইরে যেতে হচ্ছে। এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে আমাদের আন্তর্জাতিক মানের তিন থেকে চারটি হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এতে মানুষকে আর বিদেশে যেতে হবে না। এছাড়া শিক্ষিত যুবকদের জন্য চাকরি এবং অশিক্ষিত বেকারদের জন্য কলকারখানা স্থাপন করে কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপর জোর দেন তিনি।

জনসভায় চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনের প্রার্থী ডা. এটিএম রেজাউল করিম তার নির্বাচনী পরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, রাঙ্গুনিয়ার প্রধান সমস্যা কাপ্তাই সড়ক। নির্বাচিত হলে দীর্ঘদিনের দাবি কাপ্তাই সড়ক চার লেনে উন্নীত করা হবে। পাশাপাশি মরিয়মনগর-গাবতলী সড়ক এবং গোডাউন থেকে দশমাইল সড়ক সম্প্রসারণ করা হবে।

নিজে চিকিৎসক হওয়ায় স্বাস্থ্যখাতে বিশেষ নজর দেওয়ার কথা জানান ডা. রেজাউল। তিনি বলেন, নির্বাচিত হলে উত্তর ও দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়ায় পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল স্থাপন করা হবে এবং উপজেলা হাসপাতালকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হবে। এছাড়া বেতাগী সৌদিয়া গেট সংলগ্ন প্রায় ১২০ একর পরিত্যক্ত জায়গায় একটি বেসরকারি হাসপাতাল গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি, যার ফাইল ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে।

শিক্ষাখাত নিয়ে তিনি বলেন, দলীয় প্রভাবের কারণে রাঙ্গুনিয়ার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর পরিবেশ নষ্ট হয়েছে। আমরা স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় জ্ঞানী ও গুণী ব্যক্তিদের দিয়ে গভর্নিং বডি গঠন করে শিক্ষার মান ফিরিয়ে আনব।

জনসভায় এগারো দলীয় জোট ও জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন দলের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতাকর্মীরা বক্তব্য রাখেন। এর আগে বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে মিছিল সহকারে নেতাকর্মীরা সভাস্থলে যোগ দিলে কলেজ মাঠ জনসমুদ্রে রূপ নেয়।