রাউজানের মাঠে মাঠে এখন হলুদের সমারোহ, সেলফি তোলার হিড়িক


চট্টগ্রামের রাউজানের বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন কেবলই হলুদের সমারোহ। সবুজের বুকে যেন হলুদের হাতছানি। শীতের প্রকৃতি এখানে সেজেছে অপরূপ সৌন্দর্যের এক নান্দনিক সাজে। মাইলের পর মাইল বিস্তৃত এই সরিষা ক্ষেত দেখতে এবং প্রকৃতির এই রূপ ফ্রেমবন্দি করতে ভিড় করছেন নানা বয়সী মানুষ। বিশেষ করে তরুণ-তরুণীরা সরিষা ক্ষেতে মেতে উঠছেন সেলফি তোলার উৎসবে।

অন্যদিকে, ভোজ্যতেলের চাহিদা মেটাতে ও অর্থনৈতিক সচ্ছলতার বড় স্বপ্নে রাউজানজুড়ে হলুদ সরিষার আবাদ করেছেন এখানকার কৃষকরা। তারা বলছেন, এই ফসল উৎপাদনে পরিশ্রম ও খরচ দুটোই কম, কিন্তু লাভ অনেক বেশি।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, সরিষা চাষে খুব বেশি সময়ের প্রয়োজন হয় না। ক্ষেত থেকে উৎপাদিত সরিষা দিয়ে তারা নিজেদের সারা বছরের তেলের চাহিদা মেটান। পাশাপাশি উদ্বৃত্ত সরিষা ও তেল বাজারে বিক্রি করে ভালো দাম পান। সরিষার খৈল গবাদিপশু ও মাছের উৎকৃষ্ট খাদ্য হিসেবেও বিক্রি হয়, যা তাদের বাড়তি আয়ের উৎস।

রাউজান উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলাজুড়ে মোট ৭১০ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে ‘বারি’ জাতের সরিষার আবাদ হয়েছে ৫১০ হেক্টর এবং ‘বিনা’ জাতের সরিষা চাষ হয়েছে ২০০ হেক্টর জমিতে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাসুম কবির বলেন, “এবার উপজেলাজুড়ে রেকর্ড পরিমাণ জমিতে সরিষার চাষ হয়েছে। খরচ কম এবং অধিক লাভজনক হওয়ায় প্রতিবছরই সরিষা চাষাবাদে উপজেলার কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। কৃষকরা সরিষার ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করছেন এবং তেল উৎপাদনের পাশাপাশি গবাদিপশু ও মাছের খাদ্য তৈরি করে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন।”