
নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার ৪ নম্বর বারগাঁও ইউনিয়নে ডিজিটাল সেন্টারের (ইউডিসি) বৈধ ও চুক্তিবদ্ধ উদ্যোক্তাদের সরিয়ে নিয়মবহির্ভূতভাবে নতুন উদ্যোক্তা নিয়োগ দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সদ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা সাইয়েদ আহমদের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ এনেছেন বর্তমান উদ্যোক্তা আব্দুর রহমান। অভিযোগ রয়েছে, শপথ গ্রহণের দিনই রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এবং সরকারি বিধি উপেক্ষা করে তিনি দলীয় লোকজনকে এই পদে নিয়োগ দিয়েছেন।
জানা যায়, দীর্ঘ সাড়ে তিন বছর পর আদালতের রায়ে বারগাঁও ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হিসেবে গত ২৭ জানুয়ারি শপথ নেন সাইয়েদ আহমদ। শপথের দিনই তিনি তড়িঘড়ি করে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের নতুন উদ্যোক্তা হিসেবে ফয়সাল আহমদ ও উম্মে হানী আসমার সঙ্গে ৫ বছরের জন্য চুক্তিপত্র স্বাক্ষর করেন। নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত ফয়সাল আহমদ বারগাঁও ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর যুব বিভাগের সেক্রেটারি।
বর্তমান ইউডিসি উদ্যোক্তা আব্দুর রহমান দাবি করেন, তিনি এবং জান্নাতুল মাওয়া গত বছরের ২ জুন তৎকালীন চেয়ারম্যান মো. ওমর ফারুকের সময়ে সরকারি সব নিয়ম মেনে ৫ বছরের জন্য চুক্তিবদ্ধ হন। সেই চুক্তিপত্র ১৭ জুন নোয়াখালী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার শাখার উপপরিচালক জালাল উদ্দীন অনুমোদনও করেন। কিন্তু গত ২ ফেব্রুয়ারি বর্তমান চেয়ারম্যান কোনো লিখিত নোটিশ ছাড়াই মৌখিকভাবে তাকে দায়িত্ব ছেড়ে দিতে বলেন।
সরকারি বিধিমালা ও আইন বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ২০১৬ সালের স্থানীয় সরকার বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী উদ্যোক্তা পরিবর্তনের এখতিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বা জেলা প্রশাসকের। এছাড়া ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার পরিচালনা বিষয়ক নির্দেশিকা অনুযায়ী, চুক্তির মেয়াদকালে একই সেবার জন্য অন্য কোনো উদ্যোক্তার সঙ্গে আগামী ৩ বছরের মধ্যে নতুন চুক্তি করা যাবে না। তাছাড়া চুক্তি বাতিলের জন্য ইউপির স্থায়ী কমিটির রেজুলেশন প্রয়োজন, যা এই ক্ষেত্রে মানা হয়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চেয়ারম্যান সাইয়েদ আহমদ অদ্ভুত যুক্তি দেখান। তিনি বলেন, আব্দুর রহমান নামে কোনো উদ্যোক্তাকে আমি চিনি না। আগের উদ্যোক্তা যেই চেয়ারম্যানের সময়ে চুক্তি করেছিলেন, তিনি এখন আর নেই। চেয়ারম্যান পরিবর্তন হলে চুক্তিও বাতিল হয়ে যায়। তিনি দাবি করেন, শপথের সময় স্থানীয় সরকার শাখা তাকে নতুন করে চুক্তি করার নির্দেশনা দিয়েছে।
তবে সোনাইমুড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাছরিন আকতার জানান, বারগাঁও ইউনিয়নে নতুন উদ্যোক্তা নিয়োগের বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না এবং তার কাছে কোনো রেজুলেশনও আসেনি।
এদিকে নতুন চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী নোয়াখালী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার শাখার উপপরিচালক (ডিডিএলজি) ফেরদৌস বেগমের কার্যালয়ে বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে গিয়ে অফিস তালাবদ্ধ পাওয়া যায়। তিনি ছুটিতে আছেন।
তবে অফিসের সহকারী ইয়াসিন আরাফাত জানান, ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে এটা করা হয়েছে। ৫ আগস্টের পর অনেক উদ্যোক্তাদের চুক্তি থাকা অবস্থাতেই জোরপূর্বক সরানো হয়েছে। ওই দিন কাগজটা আমিই ডিল করেছি। সাইয়েদ আহমদ ২৭ জানুয়ারি চেয়ারম্যান হিসেবে শপথ শেষ করেই এই চুক্তি স্বাক্ষর করেন। আমাদের ডিডিএলজি ম্যাডাম নতুন আসছেন। এই বিষয়টা সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে করা হয়েছে। এটা ম্যাডাম অবগত ছিলেন না, আমরাও অবগত ছিলাম না।
নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত ফয়সাল আহমদ অকপটে স্বীকার করেন, তিনি নিয়োগের জন্য কোনো আবেদন করেননি। সরাসরি চেয়ারম্যানের সঙ্গে তার চুক্তি হয়েছে। তিনি বলেন, যতদিন সাইয়েদ আহমেদ চেয়ারম্যান থাকবেন, ততদিন আমরা কাজ করব। আরেক নতুন উদ্যোক্তা উম্মে হানী আসমা তার নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পর্কে কিছুই বলতে পারেননি।
উল্লেখ্য, বারগাঁও ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাইয়েদ আহমদ নোয়াখালী-২ আসন থেকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিলেও পরে জোটের স্বার্থে তা প্রত্যাহার করে নেন।
