বাঁশখালী নিয়ে লেয়াকত আলীর উচ্চাভিলাষী রোডম্যাপ


চট্টগ্রামের বাঁশখালী আসনটি দীর্ঘদিন ধরেই বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত, যেখানে বিগত দিনে দলটি পাঁচবার জয়লাভ করেছে। তবে এবারের নির্বাচনী সমীকরণ ভিন্ন। দল থেকে বহিষ্কৃত হয়েও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে নেমেছেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এবং গন্ডামারার আলোচিত চেয়ারম্যান মো. লেয়াকত আলী। তিনি বিএনপির একচ্ছত্র আধিপত্যে ফাটল ধরিয়ে ভোটের মাঠে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মো. লেয়াকত আলী তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে ‘আমার বাঁশখালী ভাবনা পঞ্চম পর্ব’ শিরোনামে একটি ইশতেহার প্রকাশ করেন, যেখানে তিনি নিজেকে যুবশক্তির সঙ্গী হিসেবে উল্লেখ করে বাঁশখালীর উন্নয়নে একগুচ্ছ আধুনিক পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।

মো. লেয়াকত আলী তাঁর ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করেন যে স্বপ্ন দেখার সাহস থাকলেও বাঁশখালীর তরুণদের জন্য সঠিক পথের অভাব রয়েছে এবং তিনি সেই পথের আলো হতে চান। স্বতন্ত্র এই প্রার্থী মনে করেন, সঠিক সুযোগ ও দক্ষতা উন্নয়নের অভাবেই এখানকার অনেক তরুণ স্বপ্ন দেখতে পারছেন না।

মো. লেয়াকত আলী প্রতিশ্রুতি দেন যে তিনি নির্বাচিত হলে উপকূলীয় এলাকার যুবকদের জন্য একটি ‘যুব এন্টারপ্রেনারশিপ ফান্ড’ গঠন করবেন। এই ফান্ডের মাধ্যমে স্বল্প সুদে ঋণ এবং সিফুড প্রসেসিং বা ইকো-প্রোডাক্ট ব্যবসায় সরকারি সহযোগিতা নিশ্চিত করা হবে। এ ছাড়া তিনি জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় উপকূলীয় অঞ্চলে কৃত্রিম বন সৃষ্টি এবং সেখানে তরুণদের মনিটরিং বা ফিল্ড অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে নিয়োগ দিয়ে ‘গ্রিন জব’ বা পরিবেশবান্ধব কর্মসংস্থান তৈরির পরিকল্পনাও জানান।

লবণ শিল্পকে বাঁশখালীর অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে উল্লেখ করে মো. লেয়াকত আলী জানান, তরুণরা যাতে ছোট ও মাঝারি পরিসরে লবণ পরিশোধন ইউনিট গড়ে তুলতে পারে, সে জন্য তিনি সরকারিভাবে প্রশিক্ষণ ও যন্ত্রপাতির ব্যবস্থা করবেন। তাঁর পরিকল্পনা অনুযায়ী, কাঁচা লবণকে আয়োডিনযুক্ত টেবিল সল্ট বা ইন্ডাস্ট্রিয়াল সল্টে রূপান্তর করে দ্বিগুণ বা তিনগুণ বেশি দামে বিক্রি করা সম্ভব হবে।

লেয়াকত আলী ঘোষণা দেন, একটি পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে প্রথম এক বছরে তিন হাজার এবং পরবর্তী পাঁচ বছরে পনেরো থেকে বিশ হাজার তরুণের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে।

তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বাঁশখালীর তরুণদের এগিয়ে নিতে মো. লেয়াকত আলী একটি আধুনিক আইটি ট্রেনিং হাব ও ফ্রিল্যান্সিং সেন্টার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করেন। তিনি জানান, বাঁশখালীর কেন্দ্রীয় স্থান থেকে শুরু করে পর্যায়ক্রমে প্রতিটি ইউনিয়নে এই কার্যক্রম ছড়িয়ে দেওয়া হবে। সেখানে উচ্চগতির ইন্টারনেটসহ কম্পিউটার ল্যাব থাকবে এবং স্থানীয় সফল ফ্রিল্যান্সারদের মেন্টর হিসেবে কাজে লাগানো হবে।

মো. লেয়াকত আলীর মতে, এর ফলে গ্রামের তরুণরা ঘরে বসেই আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ পাবে এবং আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করতে সক্ষম হবে।

পর্যটন খাত নিয়েও মো. লেয়াকত আলীর সুনির্দিষ্ট ভাবনার কথা উঠে এসেছে তাঁর এই পোস্টে। তিনি বাঁশখালীর সমুদ্রসৈকত ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে কাজে লাগিয়ে তরুণদের জন্য ইকো-টুরিজম ও লোকাল টুরিজম বিজনেস চালুর প্রস্তাব দেন।

লেয়াকত আলী বলেন, একটি কমিউনিটি ইউনিট তৈরি করা হবে যেখানে তরুণরা ট্যুর গাইড, বোট চালনা বা ফটোগ্রাফির মতো পেশায় যুক্ত হতে পারবে। এ ক্ষেত্রে সহজ শর্তে ঋণ ও পর্যটন বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেওয়ার আশ্বাসও দেন তিনি।

নারীদের স্বাবলম্বী করার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেছেন মো. লেয়াকত আলী। তিনি জানান, গ্রামীণ তরুণ নারীদের জন্য একটি নিরাপদ ও নারী-কেন্দ্রিক হস্তশিল্প উন্নয়ন কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। সেখানে শুধুমাত্র নারী প্রশিক্ষকদের মাধ্যমে সেলাই, এমব্রয়ডারি, বাঁশ-বেতের কাজ এবং লবণ-ভিত্তিক প্রসাধন তৈরির প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

মো. লেয়াকত আলী বিশ্বাস করেন, আধুনিক ডিজাইন ও ব্র্যান্ডিং শেখানোর মাধ্যমে নারীদের উৎপাদিত পণ্য নতুন বাজার পাবে এবং তারা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে উঠবেন।

রাজনীতির মাঠে বিএনপির বিদ্রোহী এই নেতার এমন আধুনিক ও উন্নয়নমুখী ইশতেহার তরুণ ভোটারদের মধ্যে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।