
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খাগড়াছড়ি আসনে ভোটকেন্দ্র দখল ও সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের ভীতি প্রদর্শন নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা। জেলার ২০৩টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৬৮টিকে ‘অধিক ঝুঁকিপূর্ণ বা রেডমার্ক’ এবং ১২১টিকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করে এসব কেন্দ্রে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
বুধবার (৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) খাগড়াছড়ি প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি, জাতীয় পার্টি, গণঅধিকার পরিষদ ও ইনসানিয়াত বিপ্লবের প্রার্থীরা এই দাবি জানান। খাগড়াছড়ি জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট আঃ মালেক মিন্টু এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ওয়াদুদ ভুইঁয়া। তিনি বলেন, “আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার মাঠপর্যায়ের তথ্যে উঠে এসেছে যে, এই আসনের ২০৩টি কেন্দ্রের মধ্যে ১২১টি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ৬৮টি কেন্দ্র রেডমার্ক বা অধিক ঝুঁকিপূর্ণ। এই চিত্র ভোটারদের মধ্যে চরম নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি করেছে।”
তিনি অভিযোগ করেন, পাহাড়ের কিছু সশস্ত্র সংগঠন তাদের পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে ভোট আদায়ে সাধারণ ভোটারদের হুমকি দিচ্ছে। কোথাও কোথাও হামলা ও প্রচারণায় বাধা দেওয়ার ঘটনাও ঘটছে। দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে কেন্দ্র দখলের সুপরিকল্পিত কৌশল বাস্তবায়ন করা হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে প্রার্থীদের পক্ষ থেকে ৬ দফা দাবি তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—
১. ভোটের অন্তত তিন দিন আগে দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় সেনাবাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা প্রদান।
২. রেডমার্ক কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত বিজিবি, পুলিশ ও আনসার মোতায়েন।
৩. স্থানীয় হেডম্যান ও কারবারিদের সম্পৃক্ত করে আস্থার পরিবেশ তৈরি।
৪. সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব প্রতিরোধে কঠোর নজরদারি।
সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী মিথিলা রোয়াজা, গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী দীনময় রোয়াজা এবং ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মো. নূর ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা বলেন, বিগত তিনটি নির্বাচনে মানুষ ভোট দিতে পারেনি। এবার ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর তরুণ ভোটারদের মধ্যে যে উৎসাহ তৈরি হয়েছে, তা ধরে রাখতে হলে প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীকে কঠোর ভূমিকা পালন করতে হবে।
বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, কোনো ধরনের অনিয়ম বা উগ্রবাদী তৎপরতা দেখা গেলে তাৎক্ষণিক ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পাহাড়ি ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর সম্মিলিত সচেতনতায় একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হবে—এটাই সবার প্রত্যাশা।
