গরু বিক্রির টাকায় হতো অপারেশন, সেই গরু চুরি করে নিল চোর


কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার হারবাং ইউনিয়নে এক নিঃসন্তান ও অসহায় বৃদ্ধের শেষ সম্বল দুটি গরু চুরি করে নিয়ে গেছে চোরের দল। গরু দুটি বিক্রি করে এতিম নাতনির চোখের চিকিৎসা করানোর কথা ছিল ওই বৃদ্ধের। কিন্তু চুরির ঘটনায় সেই স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। বর্তমানে চরম হাহাকার আর অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে ওই পরিবারের।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) ভোররাত আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার হারবাং ইউনিয়নের হারবাং স্টেশনস্থ উত্তর নোনাছড়িপাড়া এলাকায় এই চুরির ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী বৃদ্ধের নাম আনোয়ার হোসেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিঃসন্তান আনোয়ার হোসেন জীবনের শূন্যতা পূরণ করতে একসময় একটি কন্যাশিশুকে দত্তক নিয়ে স্নেহ-মমতায় বড় করেন এবং সময়মতো বিয়ে দেন। কিন্তু বিয়ের কয়েক বছরের মাথায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান ওই মেয়ের স্বামী। এরপর থেকেই মেয়েটি পোশাক কারখানায় চাকরি করে কোনোমতে সংসার চালালেও, তার দুটি কন্যাশিশুকে লালন-পালনের দায়িত্ব এসে পড়ে বৃদ্ধ আনোয়ার দম্পতির কাঁধে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি আনোয়ার হোসেনের এক নাতনি চোখে গুরুতর আঘাত পায়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, মেয়েটির চোখ বাঁচাতে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন। অর্থাভাবে যখন চিকিৎসা প্রায় অসম্ভব, তখন আনোয়ার হোসেন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তার গোয়ালের দুটি গরু বিক্রি করে নাতনির চিকিৎসার খরচ জোগাবেন। কিন্তু বৃহস্পতিবার শেষরাতে চোরের দল সেই স্বপ্নও কেড়ে নেয়।

ভুক্তভোগী আনোয়ার হোসেন জানান, গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন থাকা অবস্থায় তিনি টের পান গোয়াল থেকে গরু বের করার শব্দ। দ্রুত বাইরে বেরিয়ে দেখেন গোয়ালঘর ফাঁকা। মুহূর্তেই কান্না আর হাহাকারে ভেঙে পড়েন তিনি ও তার স্ত্রী।

কাঁপা কণ্ঠে আনোয়ার হোসেন বলেন, গরু দুইটাই ছিল আমার শেষ ভরসা। নাতনির চোখটা বাঁচাতে চেয়েছিলাম। এখন আল্লাহ ছাড়া আমাদের আর কেউ নেই। পাশে থাকা তার স্ত্রী বুকফাটা আর্তনাদে বলেন, আমরা তো কিছু চাইনি, শুধু এতিম বাচ্চাটার চোখটা বাঁচাতে চেয়েছিলাম।

এলাকাবাসী অভিযোগ করে বলেন, সম্প্রতি হারবাংসহ চকরিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গরু চুরির ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। তারা দ্রুত চোরদের শনাক্ত করে গরু উদ্ধারের জন্য পুলিশ প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। পাশাপাশি এই নিঃস্ব পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর জন্য সমাজের বিত্তবান ও হৃদয়বান মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।