বাঁশখালীতে বিতর্কের মুখে সাবেক মেয়র কামরুল, ফেসবুকে দিলেন ব্যাখ্যা


দীর্ঘ চার দশকের রাজনৈতিক জীবনে বাঁশখালীতে ‘ক্লিন ইমেজের’ রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত বাঁশখালী পৌরসভার সাবেক মেয়র কামরুল ইসলাম হোসাইনী অবশেষে তার বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য প্রকাশ্যে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। সম্প্রতি নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী লেয়াকত আলী এবং জামায়াতে ইসলামীকে লক্ষ্য করে দেওয়া তার কিছু বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় ওঠে। এই পরিস্থিতিতে তিনি ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন।

ঘটনার সূত্রপাত হয় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পার নির্বাচনী প্রচারণায়। সেখানে চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও গণ্ডামারা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান লেয়াকত আলীকে উদ্দেশ্য করে কামরুল ইসলাম হোসাইনী বলেন, লেয়াকত আলী জলদি আসতে না পারার মতো ব্যবস্থা করতে পারতাম। কিন্তু আমি এটি করিনি। লেয়াকত আলী আর আমি একসাথে রাজনীতি করেছি। দুজন সুখ-দুঃখের অংশীদার। কিন্তু তার কারণে আমাকে অনেক কথা শুনতে হয়েছে। সে যদি রক্তের ভাইও হয়, বন্ধুও হয়—কেউ যদি লেয়াকত আলীকে ভোট দেয়, তাহলে মনে করি সেটি আমার সাথে প্রতারণা করা, আমার বিরোধিতা করা। লেয়াকত আলী আমাকে বাটপার বলেছে। তাই আমি মনে করি, লেয়াকতকে ভোট দেওয়া মানে আমাকে বাটপার ডাকার মতো কথাকে স্বীকৃতি দেওয়া। আল্লাহর ওয়াস্তে লেয়াকত আলীকে কেউ ভোট দেবেন না।

এছাড়া অপর একটি পথসভায় জামায়াতে ইসলামীকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, বাংলাদেশে যে কয়েকটি দল নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে তাদের মধ্যে অন্যতম জামায়াত ও বিএনপি। তারমধ্যে দাঁড়িপাল্লা একাত্তরকে স্বীকার করে না। সুতরাং, আগামী নির্বাচনে তাদেরকে বয়কট করে ধানের শীষে ভোট দেবেন।

কামরুল ইসলাম হোসাইনীর মতো একজন প্রবীণ ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তির মুখে এমন আক্রমণাত্মক বক্তব্য শুনে নিজ দলের কর্মী, কওমি ঘরানার আলেম ও সাধারণ ভোটারদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে উদ্দেশ্য করে দেওয়া ওই বক্তব্য তার দীর্ঘদিনের অর্জিত জনপ্রিয়তায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, যা ভবিষ্যতে পৌরসভা নির্বাচনেও তার জন্য কাল হতে পারে।

সমালোচনার মুখে পড়ে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে কামরুল ইসলাম হোসাইনী লিখেন, আমি বাংলাদেশের বৃহৎ একটি রাজনৈতিক দলের কর্মী হলেও আমার ৪২-৪৩ বছরের রাজনৈতিক জীবনে কখনো প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দল কিংবা ব্যক্তিকে নিয়ে শিষ্টাচারবর্জিত মন্তব্য করিনি। নির্বাচনী প্রচারণাকালে আমার বক্তব্যের একটি অংশ খণ্ডিতভাবে প্রচার করে জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করা হয়েছে। তারপরও আমার কোনো শব্দচয়ন বা বক্তব্যে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে আমি আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি।

স্ট্যাটাসে তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, অতীতের মতো ভবিষ্যতেও সবাইকে সঙ্গে নিয়ে একটি সমৃদ্ধ, ন্যায়ভিত্তিক ও বৈষম্যহীন বাঁশখালী গড়ে তুলতে চান তিনি।

উল্লেখ্য, কামরুল ইসলাম হোসাইনী বর্তমানে দৈনিক পূর্বদেশ পত্রিকার জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। প্রখ্যাত আলেম ও জলদী হোসাইনিয়া কামিল মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা মোস্তাফিজুর রহমানের সন্তান কামরুল ১৯৮৩ সালে ছাত্রদলের মাধ্যমে রাজনীতিতে আসেন। ২০০১ সালে তিনি পরিবেশ ও বন প্রতিমন্ত্রী জাফরুল ইসলাম চৌধুরীর সহকারী একান্ত সচিব ছিলেন এবং ২০০৩ সালে বাঁশখালী পৌরসভার প্রথম প্রশাসক ও পরবর্তীতে নির্বাচিত চেয়ারম্যান এবং মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সাম্প্রতিক বিতর্ক ও প্রকাশ্য দুঃখ প্রকাশের মাধ্যমে তিনি আবারও সাধারণ মানুষের আস্থা ফেরাতে সচেষ্ট হয়েছেন বলে মনে করছে স্থানীয় রাজনৈতিক মহল।