
দক্ষিণ চট্টগ্রামের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনটি আসন্ন নির্বাচনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নির্বাচনের বাকি আর মাত্র কয়েক দিন। ১৭টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এই আসনে নির্বাচনী প্রচারণা এখন তুঙ্গে। বিএনপি ও জামায়াত জোটসহ এই আসনে মোট ৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে বড় ‘ফ্যাক্টর’ হতে যাচ্ছে সনাতনী সম্প্রদায়ের লক্ষাধিক ভোটার। বিগত সময়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে এসব ভোট নির্দিষ্ট একটি দলের দিকে টানার অভিযোগ থাকলেও এবার প্রেক্ষাপট ভিন্ন।
এই আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৫৩ হাজার ১৯৫ জন। এর মধ্যে হাইদগাঁও, কেলিশহর, ধলঘাট, দক্ষিণভূর্ষি, খরনা, হাবিলাসদ্বীপ, ছনহরা, ভাটিখাইন ও পৌরসদরের ৯টি ওয়ার্ড মিলিয়ে লক্ষাধিক সনাতনী ভোটার রয়েছেন। স্থানীয়দের ধারণা, এই বিপুল সংখ্যক ভোট যাদের বাক্সে যাবে, তারাই শেষ পর্যন্ত বিজয়ের হাসি হাসবেন।
পটিয়া আসনে এবার বিএনপি জোট থেকে ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এনামুল হক এনাম। জামায়াত জোট থেকে লড়ছেন ডা. ফরিদুল আলম। এছাড়া ইসলামী ফ্রন্ট থেকে এয়ার মুহাম্মদ পেয়ারু, ইসলামী আন্দোলন থেকে এস এম বেলাল নুর, জাতীয় পার্টি থেকে ফরিদ আহমদ চৌধুরী, ইনসানিয়াত বিপ্লব থেকে আবু তালেব হেলালী এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সাখাওয়াত হোসেন নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।
ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবার মূল লড়াইটা হবে ত্রিমুখী। বিএনপির এনামুল হক এনাম, জামায়াতের ডা. ফরিদুল আলম এবং ইসলামী ফ্রন্টের এয়ার মুহাম্মদ পেয়ারু—এই তিন প্রার্থীর মধ্যেই মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনজনই প্রতিদিন সনাতনী অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে গণসংযোগ করছেন, ভোট প্রার্থনা করছেন এবং নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিচ্ছেন।
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সনাতনী ভোটাররা এবার বেশ ফুরফুরে মেজাজে আছেন। কেলিশহর ইউনিয়নের বাসিন্দা কাজল দে জানান, ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে বিএনপি ও জামায়াত উভয় দলই আমাদের পাশে ছিল। বিগত সময়ে একটি গোষ্ঠী আমাদের নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করত। এবার আমরা স্বাধীনভাবে যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দেব।
ভাটিখাইন ইউনিয়নের বাসিন্দা রাজু শীল বলেন, বিগত ফ্যাসিবাদী আমলে আমাদের ভয়ের মধ্যে থাকতে হতো। ৫ আগস্টের পর আমরা স্বাধীনভাবে বসবাস করছি। আমাদের এলাকায় বিএনপি এবং জামায়াত দুই দলের সাথেই সম্প্রীতি বজায় আছে। আমরা এবার একজন সৎ ও যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করব।
পটিয়া উপজেলা জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের সভাপতি ও শিক্ষক নেতা শ্যামল দে বলেন, প্রশাসন যদি সহযোগিতা করে তবে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার জন্য আগ্রহী। সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশ পেলে তারা ভোট প্রয়োগ করবেন এবং সৎ ও যোগ্য প্রার্থীকে বেছে নেবেন। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ও চায় ভোট প্রয়োগের মাধ্যমে দেশে স্থিতিশীল ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরে আসুক।
সনাতনী ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন তৎপর রয়েছে। পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ফারহানুর রহমান জানিয়েছেন, যেসব এলাকায় সনাতনী ভোটার বেশি, সেসব এলাকায় সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশ নিয়মিত টহল এবং তদারকিতে আছে। ইতিমধ্যে বিজিবি মাঠে কাজ শুরু করে দিয়েছে। ধর্ম, বর্ণ, গোত্র নির্বিশেষে সকল ভোটার যাতে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ভয়ে ভোট দিতে পারেন, সে বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনসহ সকল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।
