চকরিয়ায় ১৪৪ ধারা ভেঙে চলছে নির্মাণকাজ, বাধা দিলে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ


কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার লক্ষ্যারচর ইউনিয়নে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে একটি অসহায় পরিবারের ক্রয়সূত্রে মালিকানাধীন জমি জোরপূর্বক দখল ও পাকা স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী পরিবার বাধা দিতে গেলে তাদের মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এমনকি থানা পুলিশের নোটিশকেও তোয়াক্কা করছে না দখলদার চক্রটি।

ভুক্তভোগী রওশন আক্তার (৫৮) অভিযোগ করে জানান, লক্ষ্যারচর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মন্ডল পাড়া এলাকায় বিএস খতিয়ান নম্বর ৬৪৪ এবং বিএস দাগ নম্বর ৪০৭ ও ৪০৮ মূলে ৪১ শতক জমি তিনি ও তার স্বামী নুরুল আবছারের নামে রেজিস্ট্রি দলিল মূলে ক্রয়কৃত সম্পত্তি। দীর্ঘদিন ধরে তারা শান্তিপূর্ণভাবে উক্ত জমি ভোগদখল করে আসছেন। কিন্তু একটি প্রভাবশালী চক্র দীর্ঘদিন ধরে জমিটি দখলের পাঁয়তারা করছিল।

অভিযোগে জানা যায়, গত ১২ সেপ্টেম্বর সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে কয়েকজন ব্যক্তি ইট, বালি, সিমেন্ট ও ইটের খোয়া এনে জোরপূর্বক ঘর নির্মাণের মাধ্যমে জমিটি দখলের চেষ্টা চালায়। বিষয়টি জানতে পেরে রওশন আক্তার কক্সবাজার শহর থেকে ঘটনাস্থলে গিয়ে বাধা দিলে অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে মারধরের চেষ্টা করে এবং অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে।

জমি জবরদখল ও প্রাণনাশের হুমকির মুখে ভুক্তভোগী রওশন আক্তার চকরিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ এবং পরবর্তীতে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) আদালতে এম.আর মামলা (নম্বর- ২০৯/২৫) দায়ের করেন। এর প্রেক্ষিতে বিজ্ঞ আদালত ওই জমিতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারা জারি করেন।

কিন্তু অভিযুক্তরা আদালতের এই আদেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে পেশিশক্তির দাপটে জোরপূর্বক রাতের আঁধারে নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এ বিষয়ে চকরিয়া থানায় পুনরায় বিষয়টি অবহিত করলে তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সোহরাব সাকিব বিবাদীদের থানায় সরাসরি হাজির হওয়ার জন্য নোটিশ প্রদান করেন। কিন্তু তারা সেই নোটিশ অমান্য করে থানায় উপস্থিত না হয়ে উল্টো নির্মাণকাজ অব্যাহত রেখেছে।

ভুক্তভোগী রওশন আক্তারের অভিযোগ, অভিযুক্তরা এখনো জবরদখল কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং যেকোনো সময় বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। ভুক্তভোগী পরিবার বর্তমানে তাদের জান-মাল ও সম্পত্তির নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

এ বিষয়ে চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনির হোসেন বলেন, বিষয়টি আমি অবগত হওয়ার পর তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য একজন এসআইকে নির্দেশনা দিয়েছি। আদালতের আদেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।