ঢাকা থেকেও দেখা যাবে চকরিয়ার ভোট


কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে প্রশাসন। ইতিমধ্যে চকরিয়া উপজেলার ১৮টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা এলাকার ১৩০টি ভোটকেন্দ্রে প্রয়োজনীয় সংখ্যক সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। একই সঙ্গে পুলিশের শরীরে ১৩০টি বডি ওর্ন ক্যামেরার সংযোগ স্থাপন এবং এসব ক্যামেরা সার্বক্ষণিক মনিটরিং করার জন্য চকরিয়া থানায় আধুনিক ডকিং স্টেশন চালু করা হয়েছে।

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) চকরিয়া থানা পুলিশের উদ্যোগে আয়োজিত এক প্রেস কনফারেন্সে ভোটকেন্দ্র ভিত্তিক নিরাপত্তা জোরদারসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের এসব তথ্য তুলে ধরেন চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনির হোসেন।

সংবাদ সম্মেলনে ওসি মনির হোসেন জানান, নির্বাচনে যাতে চকরিয়া উপজেলার কোথাও কোনো প্রকার অঘটন না ঘটে, সে ব্যাপারে প্রশাসন সর্বোচ্চ সচেতন রয়েছে। তিনি উপজেলার ভোটকেন্দ্রগুলোর ঝুঁকি বিশ্লেষণ করে বলেন, চকরিয়া উপজেলার ১৩০টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১৪টি কেন্দ্রকে ‘অধিক ঝুঁকিপূর্ণ’, ৬১টি কেন্দ্রকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ এবং ৫৫টি কেন্দ্রকে ‘সাধারণ’ ক্যাটাগরিতে চিহ্নিত করা হয়েছে। মূলত অতীতে যেসব ভোটকেন্দ্রে কোনো সময় গোলমাল হয়নি, সেগুলোকে সাধারণ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।

নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রযুক্তিগত দিক তুলে ধরে ওসি আরও জানান, প্রত্যেকটি কেন্দ্রে পুলিশ ছাড়াও সেনাবাহিনীর একই রকমের আলাদা নজরদারি ব্যবস্থা থাকবে। এসব ক্যামেরার লিংক উপজেলা, জেলা, জোন এবং বাহিনী হেডকোয়ার্টার ছাড়াও সরাসরি নির্বাচন কমিশন থেকেও রিয়েল টাইম মনিটরিং করা সম্ভব হবে। ফলে ভোটকেন্দ্রে কোনো অনিয়ম হলে তা তাৎক্ষণিকভাবে ধরা পড়বে।

এছাড়া অধিক ঝুঁকিপূর্ণ, ঝুঁকিপূর্ণ ও সাধারণ কেন্দ্র এলাকার প্রত্যেকটি জনপদের সাধারণ মানুষের সঙ্গে পুলিশ গণসংযোগ করে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে থাকার আশ্বাস প্রদান ও সচেতনতা বৃদ্ধির কাজ সম্পন্ন করেছে। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে চকরিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ মনির হোসেন আশা প্রকাশ করে বলেন, এবারের নির্বাচনে প্রযুক্তির ব্যবহার ও প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের কারণে চকরিয়ায় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কা নেই। তিনি ভোটারদের নির্ভয়ে কেন্দ্রে আসার আহ্বান জানান।