চট্টগ্রাম কারাগারে ভোট দিলেন ৩৫৪ বন্দী


চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন ৩৫৪ জন বন্দী। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিকাল পর্যন্ত কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে এই ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। কারাগারের চার দেয়ালের ভেতরে থেকেও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ এই দুই ইভেন্টে অংশ নিতে পেরে বন্দীদের মধ্যে উৎসাহ লক্ষ্য করা গেছে।

কারা সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন নির্বাচন ও গণভোটে ভোট দেওয়ার জন্য চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মোট ৩৭৯ জন বন্দী যথাযথ প্রক্রিয়ায় আবেদন ও নিবন্ধন করেছিলেন। এর মধ্যে নির্বাচন কমিশন থেকে ৩৫৪ জনের ব্যালট পেপার কারাগারে এসে পৌঁছায়। শনিবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে নিয়োজিত নির্বাচন কর্মকর্তা, জেল সুপার এবং কয়েকজন কারারক্ষীর উপস্থিতিতে এই ৩৫৪ জন বন্দী পোস্টাল ব্যালটে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেন এবং গণভোটে রায় জানান।

তবে আবেদন করা সব বন্দী শনিবার ভোট দিতে পারেননি। এ বিষয়ে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জ্যেষ্ঠ জেল সুপার মো. ইকবাল হোসেন জানান, মোট ৩৭৯ জন আবেদন করলেও এখন পর্যন্ত ১৫ জনের বেশি বন্দীর ব্যালট পেপার কারাগারে এসে পৌঁছায়নি। ফলে তাদের কাছ থেকে ভোট নেওয়া সম্ভব হয়নি। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, রোববার দুপুরের মধ্যে বাকি ব্যালটগুলো পৌঁছালে অবশিষ্ট বন্দীদের ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করা হবে।

কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা মেনে অত্যন্ত স্বচ্ছতার সঙ্গে এই ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। বন্দীরা যাতে নির্ভয়ে এবং গোপনীয়তা রক্ষা করে ভোট দিতে পারেন, সে জন্য কারাগারে বিশেষ বুথ ও ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল। সাজাপ্রাপ্ত বা বিচারাধীন মামলার আসামিরা পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে এই সুযোগ পাচ্ছেন, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করছে।