১২ ফেব্রুয়ারি ভোট ডাকাতি হলে প্রতিরোধ: জামায়াত নেতার হুঁশিয়ারি


আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে নির্বাচনী উত্তাপ তুঙ্গে। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) উপজেলার নারায়ণহাট শিক্ষা কমপ্লেক্স মাঠে অনুষ্ঠিত এক বিশাল জনসভায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মাওলানা মুহাম্মদ শাহজাহান বলেছেন, দুর্নীতিবাজদের হাতে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিলে দেশ কখনো এগোতে পারে না। ফটিকছড়িতে দাঁড়িপাল্লার গণজাগরণ আর ঠেকানো যাবে না।

চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) সংসদীয় আসনে ১১ দলীয় জোট সমর্থিত ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমিনের সমর্থনে এই জনসভার আয়োজন করা হয়। সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাওলানা শাহজাহান রাষ্ট্র গঠনের জন্য পাঁচটি মৌলিক বিষয়কে অপরিহার্য বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, প্রথমত সততা, দ্বিতীয়ত নৈতিক ধৃঢ়তা ও আদর্শিক অবস্থান, তৃতীয়ত ইনসাফ বা ন্যায়বিচার, চতুর্থত দক্ষতা এবং পঞ্চমত কর্মসংস্থান—এই পাঁচটি গুণ ছাড়া রাষ্ট্র গঠন অসম্ভব।

মাওলানা শাহজাহান বর্তমান প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, দেশের ধ্বংসের মূল কারণ তিনটি—দুর্নীতি, ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদ। দুর্নীতি বাংলাদেশকে ভেতর থেকে ফাঁপা করে দিয়েছে, ফ্যাসিবাদ মানুষের কণ্ঠরোধ করেছে এবং আধিপত্যবাদ দেশের স্বাধীনতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। এসবের বিরুদ্ধে জামায়াতে ইসলামী স্পষ্ট ও আপসহীন অবস্থান নিয়েছে। বেকারত্ব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শুধু বেকার ভাতা দিয়ে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। প্রতিটি বেকারের জন্য সম্মানজনক কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে তিনি প্রযুক্তি ও উন্নয়নের নামে দেশ বিক্রির যেকোনো ষড়যন্ত্র প্রতিহত করার আহ্বান জানান।

সাম্প্রদায়িকতা ও সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা বিষয়ে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, জামায়াতে ইসলামী শুরু থেকেই সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে। এ দেশে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সবাই সমান নাগরিক। সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জামায়াতের ঈমানি দায়িত্ব। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এটি কোনো সাধারণ নির্বাচন নয়। আবারও ভোট ডাকাতির চেষ্টা হলে জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। কোনো জালিয়াতি জনগণের রায় ঠেকাতে পারবে না।

সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমিন। তিনি ভোটারদের কাছে ভোট ও দোয়া প্রার্থনা করেন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ১১ দলীয় জোটের শরিক দল খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় দাওয়াহ বিষয়ক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম উত্তর জেলার সভাপতি মুফতি শিহাব উদ্দিন, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর আব্দুর রহমান চৌধুরী, খেলাফত মজলিসের চট্টগ্রাম উত্তর জেলার সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আমজাদ হোসাইন, জেলা যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ফটিকছড়ি জোন পরিচালক মামুনুর রশিদ মিনহাজ এবং চট্টগ্রাম উত্তর জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আব্দুল জব্বার। মুফতি শিহাব উদ্দিন তার বক্তব্যে বলেন, আলেম-ওলামা ও সাধারণ মানুষের প্রতীক হচ্ছে দাঁড়িপাল্লা। টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত ১১ দলীয় জোটের যে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে, তাতে ইনশাআল্লাহ আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দাঁড়িপাল্লার বিজয় নিশ্চিত হবে।

ভূজপুর থানা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক মাওলানা জাহাঙ্গীর আলমের সভাপতিত্বে এবং ভূজপুর জামায়াতের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি আবু তাহেরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন এনসিপি নেতা একরামুল হক, শহীদুল ইসলাম সাফি, এম এ সাত্তার, সফিউল আলম নূরী, ডা. আব্দুর রহিম, অ্যাডভোকেট ইসমাইল গনি, এজহারুল ইসলাম, নুর মোহাম্মদ আল কাদেরি, জিয়াউল হক জিয়া এবং হাসান সামশুউদ্দিনসহ জোট ও স্থানীয় জামায়াতের নেতৃবৃন্দ।