
বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ধর্মকে পুঁজি করে মানুষকে বিভ্রান্ত করার রাজনীতি আর চলবে না। একটি দল সাধারণ মানুষকে ধর্মের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে তাদের প্রতীকে ভোট দিলে বেহেশতে যাবে—এমন প্রলোভন দেখিয়ে ভোট ভিক্ষা চাইছে। কিন্তু জনগণ এখন সচেতন হয়েছে। তারা এসব ভণ্ডদের ভণ্ডামি প্রত্যাখ্যান করেছে। ফলে তাদের কথিত ‘বেহেশতের টিকিট’ বিক্রিও এখন বন্ধ হয়ে গেছে।
রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় চট্টগ্রাম-১৫ (লোহাগাড়া–সাতকানিয়া আংশিক) আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী নাজমুল মোস্তফা আমিনের সমর্থনে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আমির খসরু অভিযোগ করে বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ওই দলটির একটি বিশেষ ‘বটবাহিনী’ প্রতিনিয়ত অসত্য, কুরুচিপূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে সাধারণ মানুষকে প্রতারিত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অপপ্রচার ও মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। আগামী ১২ তারিখ ব্যালট বিপ্লবের মাধ্যমে এসব মিথ্যার জবাব দিতে হবে। মিথ্যেবাদী ও ভণ্ডদের কবর রচনা করেই শহীদ জিয়ার স্বপ্নের স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে—ইনশাআল্লাহ।
নির্বাচনী পরিবেশ সম্পর্কে তিনি বলেন, যেখানেই যাচ্ছি, সেখানেই ধানের শীষের জোয়ার দেখা যাচ্ছে। চারদিকে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। পুরুষ, মহিলা এমনকি শিশুরাও ধানের শীষের স্লোগান দিচ্ছে। তবে তিনি নেতাকর্মীদের সতর্ক করে বলেন, আমাদের আন্দোলন এখনো শেষ হয়নি। ১২ তারিখ রাতে নির্বাচনী ফলাফল নিয়ে যখন ঘরে ফিরব, তখনই আন্দোলনের সমাপ্তি হবে—এর আগে নয়।
আমির খসরু আরও বলেন, নির্বাচনে বিএনপি জয়লাভ করবে, তবে সেই জয় হতে হবে বিশাল ভোটে। বিশ্বের মানুষের কাছে বার্তা পৌঁছে দিতে হবে—বাংলাদেশের জনগণ কোনো অদৃশ্য শক্তিকে ক্ষমতায় দেখতে চায় না। জনগণের রায়েই সত্য প্রতিষ্ঠিত হবে।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আসহাব উদ্দীন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই পথসভায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নাজমুল মোস্তফা আমিন, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মুজিবুর রহমান চেয়ারম্যান, সদস্য এস এম ছলিম উদ্দিন খোকন চৌধুরী, সাজ্জাদুর রহমান এবং সালাউদ্দিন চৌধুরী সোহেল। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ফৌজুল কবির ফজলু।
