
কক্সবাজারের পেকুয়ায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনের ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমদের নির্বাচনী গণমিছিলে মানুষের ঢল নেমেছে। রোববার বিকেলে উপজেলার আলহাজ্ব কবির আহমদ চৌধুরীর বাজার থেকে শুরু হওয়া মিছিলটি বানৌজা সড়ক হয়ে সাকুরপাড় স্টেশনে গিয়ে যখন শেষ হয়, তখন পুরো এলাকা কার্যত জনসমুদ্রে পরিণত হয়। স্থানীয় রাজনৈতিক সচেতন মহলের মতে, লোকসমাগমের দিক থেকে পেকুয়ায় অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে সালাহউদ্দিন আহমদের এই নির্বাচনী শোডাউন।
সকাল থেকেই উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন থেকে নেতাকর্মীরা বাস, ট্রাক ও বিভিন্ন পরিবহনে করে মিছিলস্থলে জড়ো হতে থাকেন। কারও হাতে প্ল্যাকার্ড, কারও হাতে সালাহউদ্দিন আহমদ ও দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ছবি। নেচে-গেয়ে বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে ধানের শীষের স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো পেকুয়া। মিছিলের সম্মুখভাগে নেতৃত্ব দেন স্বয়ং সালাহউদ্দিন আহমদ। স্থানীয়দের ধারণা, মিছিলে প্রায় অর্ধলক্ষাধিক মানুষের সমাগম ঘটে।
মিছিল শেষে সাকুরপাড় স্টেশনে আয়োজিত পথসভায় সালাহউদ্দিন আহমদ আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। দীর্ঘ পথ হেঁটে ক্লান্ত হলেও নেতাকর্মীদের উচ্ছ্বাস ও উদ্দীপনায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, আজ ৮ তারিখ পেকুয়া উপজেলার নির্বাচনী প্রচারণার শেষ গণমিছিল অনুষ্ঠিত হলো। আগামীকাল সোমবার দুপুর ২টায় চকরিয়া বাস টার্মিনালে আমাদের শেষ নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হবে। আশা করি, আপনারা সবাই সেখানে উপস্থিত থেকে আমাদের শক্তি ও সাহস জোগাবেন।
নির্বাচনী আচরণবিধির বিষয়ে নেতাকর্মীদের সতর্ক করে তিনি বলেন, আগামীকাল (সোমবার) রাতের মধ্যেই সব ধরনের নির্বাচনী প্রচারণা কার্যক্রম শেষ হবে। ১০ তারিখ সকাল ৮টার মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারণার সময়সীমা শেষ হয়ে যাবে। ভোটের দিন নেতাকর্মীদের করণীয় সম্পর্কে স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, প্রত্যেককে নিজ নিজ ভোটকেন্দ্রে অবস্থান করতে হবে এবং ফলাফল হাতে না পাওয়া পর্যন্ত কেন্দ্র ছাড়া যাবে না। একই সঙ্গে শান্তি বজায় রাখা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করা এবং ভোটকেন্দ্রে কোনো ধরনের অনিয়ম যেন না হয়, সেজন্য সবাইকে সতর্ক ও সজাগ থাকতে হবে।
তিনি আরও বলেন, মা-বোনেরা যেন নির্ভয়ে নিজেদের পরিচয় দিয়ে ভোট দিতে পারেন, সে ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে। গত ১৬-১৭ বছর ধরে দেশের মানুষ স্বাধীনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি। ইনশাআল্লাহ, এবারের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ একটি নতুন যাত্রা শুরু করবে এবং একটি শক্তিশালী গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে। যেখানে আর কখনো রক্ত দিতে হবে না।
বক্তব্যের শেষাংশে তিনি সবাইকে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানিয়ে বলেন, কেউ ঘরে বসে থাকবেন না। এরপর তিনি গণমিছিলের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
এ সময় মিছিলে ও সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য ও সালাহউদ্দিন আহমদের সহধর্মিণী অ্যাডভোকেট হাসিনা আহমদ, তাঁদের পুত্র সাঈদ ইব্রাহিম আহমেদ, উপজেলা বিএনপির সভাপতি বাহাদুর শাহ, সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোছাইন, সাংগঠনিক সম্পাদক জেড এম মুসলেম উদ্দিন ও ডাক্তার বেলাল হায়দার, উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শাফায়েত আজিজ রাজু, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক কামরান জাদীদ মুকুট, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আহছান উল্লাহসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের সর্বস্তরের নেতৃবৃন্দ।
