র‍্যাব ও ডিজিএফআই বিলুপ্তির দাবি সাবেক সেনাপ্রধানের


র‍্যাব ও ডিজিএফআই অবিলম্বে বিলুপ্ত করার দাবি জানিয়ে সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) ইকবাল করিম ভূঁইয়া বলেছেন, সেনাবাহিনী কলুষিত হয়েছে, এখন আত্মশুদ্ধির সময় এসেছে। তিনি বলেন, আয়নাঘরের মতো অপসংস্কৃতি জন্ম দেওয়ার পর ডিজিএফআই টিকে থাকার বৈধতা হারিয়েছে।

আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে গুম ও খুনের ঘটনায় সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সোমবার দ্বিতীয় দিনের মতো জবানবন্দি দেন তিনি। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে এই সাক্ষ্যগ্রহণ চলে।

এদিন জবানবন্দিতে সাবেক সেনাপ্রধান বলেন, “অনেকেই ভাবছেন আমি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছি। কিন্তু আমরা যতই অস্বীকার করি না কেন, সেনাবাহিনী কলুষিত হয়েছে। আমাদের আত্মশুদ্ধির যে সুযোগ এসেছে, তা কোনোভাবেই হেলায় হারানো উচিত হবে না।”

তিনি র‍্যাব বিলুপ্ত করার দাবি জানিয়ে বলেন, “সেটি সম্ভব না হলে অন্তত সামরিক সদস্যদের বাহিনীতে ফিরিয়ে আনা উচিত।”

আদালতে উপস্থিত মামলার একমাত্র আসামি জিয়াউল আহসানের উপস্থিতিতে ইকবাল করিম ভূঁইয়া তার দায়িত্বকালীন সময়ের চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরেন। তিনি জানান, ক্রসফায়ার না থামায় একপর্যায়ে তিনি ডিজিএফআই, বিজিবি ও র‍্যাবে সেনা কর্মকর্তা পোস্টিং বন্ধ করে দিয়েছিলেন।

তৎকালীন পরিস্থিতির বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, “পোস্টিং বন্ধ করায় আমাকে বিদ্রোহের অভিযোগের মুখে পড়তে হয়েছিল। তৎকালীন র‍্যাব ডিজি বেনজীর আহমেদ আমার অফিসে এসে অফিসার চেয়েছিলেন, কিন্তু আমি কথা দিইনি। এমনকি চট্টগ্রামে হোটেল র‍্যাডিসন উদ্বোধনের সময় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও আমাকে ডেকে র‍্যাবে অফিসার দিতে বলেন। আমি তাকেও জানিয়েছিলাম, স্বল্পতার কারণে অফিসার দেওয়া সম্ভব নয়।”

অবসর গ্রহণের আগ পর্যন্ত এই চাপ অব্যাহত ছিল জানিয়ে তিনি বলেন, “র‍্যাবের কর্মকাণ্ডের কারণে আমার দায়িত্বকালীন সময়টি ছিল অত্যন্ত কষ্টদায়ক। কিছু করতে না পারার বেদনা আমাকে আচ্ছন্ন করে রাখত। আজ সেই কাজটি সম্পন্ন করার সুযোগ এসেছে। এতে সেনাবাহিনীর গৌরব ক্ষুণ্ণ হবে না, বরং বাড়বে।”

জবানবন্দি শেষে আসামিপক্ষের আইনজীবী আমিনুল গনি সাবেক সেনাপ্রধানকে জেরা শুরু করেন। জেরায় এক প্রশ্নের জবাবে ইকবাল করিম ভূঁইয়া বলেন, “হ্যাঁ, আমি একজন ডিহিউম্যানাইজড (মানবিক বোধহীন) সেনা কর্মকর্তা। আমি আমার চাকরিজীবনের ৪০ বছরে শিখেছি কীভাবে মানুষ হত্যা করতে হয়। শুধু আমি নই, পৃথিবীর সব সেনাসদস্যকে এই একই প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।”

প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবারের মতো জেরা সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়। আদালত আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি পরবর্তী জেরার দিন ধার্য করেছেন। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।