
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের দিন সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসনের প্রার্থী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সোমবার বেলা ১১টার দিকে চট্টগ্রাম নগরের মেহেদীবাগের বাসভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি তার নির্বাচনী এলাকার উন্নয়নের জন্য ১১ দফা প্রতিশ্রুতিও তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে কোনো দলের নাম উল্লেখ না করে আমীর খসরু বলেন, পত্রপত্রিকা ও সামাজিক মাধ্যমে নানা বিষয় উঠে আসছে। কেউ ব্যালট ছাপাচ্ছে, বোরকা বানাচ্ছে, আবার কেউ জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডি কার্ড নিয়ে যাচ্ছে। এমনকি বিকাশে টাকা পাঠানোর জন্য মোবাইল নম্বরও সংগ্রহ করা হচ্ছে। তবে এসব করে কেউ পার পাবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণ এসবে বিভ্রান্ত হবে না। এসব বিষয় মাথায় রেখে সবাইকে সাবধান হতে হবে।
আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতির উন্নয়নে পুলিশ ও নাগরিকদের যৌথভাবে কাজ করার ওপর জোর দেন সাবেক এই মন্ত্রী। তিনি বলেন, বিএনপি জনগণের দল এবং গণতন্ত্রের জন্য তারা কখনো আপস করেনি। যারা নির্বাচন চায়নি এবং পেছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতায় আসার চেষ্টা করছে, দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণ ব্যালটের মাধ্যমে তাদের জবাব দেবে।
সরকার গঠন প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বিএনপি যদি প্রয়োজন মনে করে, তবে কোয়ালিশন সরকার গঠনের কথা ভাববে। দলের ৩১ দফার সঙ্গে যদি অন্য দলের দফা ও পরিকল্পনা মেলে এবং পরিস্থিতির প্রয়োজনে আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। তবে তিনি এও উল্লেখ করেন যে, এর সম্ভাবনা আপাতত কম।
চট্টগ্রাম নিয়ে নিজের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে বিএনপি নেতা বলেন, দল ক্ষমতায় এলে চট্টগ্রামকে শুধু বাণিজ্যিক রাজধানী নয়, লজিস্টিক হাব হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এটি দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশগুলোও ব্যবহার করতে পারবে। এ সময় তিনি এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের উদাহরণ টানেন।
নির্বাচনী প্রচারণায় ভোটারদের কাছে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ১১টি সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি তুলে ধরছেন। প্রতিশ্রুতির মধ্যে রয়েছে বন্দর-পতেঙ্গা এলাকায় ১ হাজার ২০০ শয্যাবিশিষ্ট আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণ এবং বেকার তরুণদের জন্য ফ্রিল্যান্সিং ও আউটসোর্সিং প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা। এছাড়া চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, মাদক ও অপরাধের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা নীতি বাস্তবায়ন, সুপেয় পানির ব্যবস্থা ও জলাবদ্ধতা নিরসনে আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা করার কথা ইশতেহারে বলা হয়েছে।
দীর্ঘমেয়াদি যানজট নিরসন, ইপিজেড ও শিল্পাঞ্চালে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, টেকসই সড়ক ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার জট নিরসনে আধুনিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার কথাও জানান তিনি। নাগরিক সেবায় বিভিন্ন দপ্তরের সমন্বয়হীনতা দূর করে একীভূত ডিজিটাল সেবা চালু এবং দীর্ঘমেয়াদি নগর-পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অঙ্গীকারও করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন নগর বিএনপির সদস্যসচিব নাজিমুর রহমান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম, বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপকমিটির সদস্য ইসরাফিল খসরু, নগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল আলম এবং জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম চট্টগ্রামের সদস্যসচিব কামরুল ইসলাম সাজ্জাদ।
