বৈধ কাগজ থাকার পরও জেল খেটে ফিরলেন প্রবাসীরা


মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে শূন্য হাতে দেশে ফিরেছেন ২১ জন বাংলাদেশি। সোমবার সকালে দুটি পৃথক ফ্লাইটে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান তারা। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বৈধ ইকামা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র থাকার পরও পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে জেল খাটানোর পর দেশে ফেরত পাঠিয়েছে।

বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর ইমিগ্রেশন পুলিশ ও বিমানবাহিনী টাস্কফোর্সের সহায়তায় এসব বিদেশফেরত ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীকে জরুরি সহায়তা প্রদান করে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক। ফিরে আসা কর্মীদের মধ্যে দুইজন নারীও রয়েছেন।

চট্টগ্রামের লোহাগড়া উপজেলার আমির আহাম্মেদ নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বলেন, আমি সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবির জেলে টানা ২৭ দিন বন্দি ছিলাম। আমার মতো হাজার হাজার মানুষ এখনো সেখানে আটক রয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই বাঙালি। কাগজপত্র সম্পূর্ণ বৈধ থাকা সত্ত্বেও পুলিশ আমাকে গ্রেপ্তার করে। ঋণ করে বিদেশে গিয়েছিলাম, সেই ঋণের বোঝা মাথায় নিয়েই দেশে ফিরলাম। কাজ নেই, আয় নেই, আমি এখন সম্পূর্ণ নিঃস্ব।

একই পরিস্থিতির শিকার হয়ে ফিরেছেন নারী কর্মী শাহিনা বেগম। তিনি জানান, সব কাগজ ঠিক থাকার পরও তাকে ২৭ দিন আবুধাবির জেলে রাখা হয়েছিল। অন্যদিকে কুমিল্লার প্রবাসী জহির আহমেদ বলেন, আমি অসুস্থ অবস্থায় টানা ২৪ দিন জেলে ছিলাম। আমাদের বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কেউ খোঁজ নেয়নি।

শুধুমাত্র চট্টগ্রাম নয়, ফেরত আসা প্রবাসীদের মধ্যে কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালসহ বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা রয়েছেন। এ বিষয়ে ব্র্যাকের সহযোগী পরিচালক (মাইগ্রেশন ও ইয়ুথ প্ল্যাটফর্ম) শরিফুল হাসান জানান, বাংলাদেশের যেসব এলাকা থেকে লোকজন সবচেয়ে বেশি বিদেশে যায় চট্টগ্রাম তার একটি। আবার নানা সংকটে পড়ে যারা শূন্য অবস্থায় ফেরে তাদের মধ্যে চট্টগ্রামের অনেক মানুষ রয়েছেন।

শরিফুল হাসান আরও জানান, ২০২১ সাল থেকে এ পর্যন্ত চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিদেশফেরত মোট ৪ হাজার ৭২৪ জন ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীকে মানবিক সহায়তা করা হয়েছে। এদের বেশিরভাগই শূন্য হাতে ফিরেছেন। বিদেশফেরত ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীদের সহায়তা জোরদার করতে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের সহায়তায় আগমন টার্মিনালে ‘ব্র্যাক মাইগ্রেশন ওয়েলফেয়ার সেন্টার’ ডেস্ক স্থাপন করা হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ব্র্যাকের যৌথ অর্থায়নে পরিচালিত ‘প্রত্যাশা-২’ প্রকল্পের আওতায় এই সেবা দেওয়া হচ্ছে।