
চট্টগ্রামের পটিয়ায় বাইপাস সড়কে ফিল্মি স্টাইলে একটি ছোট কাভার্ডভ্যান আটকে চালককে মারধর করে সাড়ে ৩ টন মাছ লুট করে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। রোববার রাতে এ ঘটনার পর সোমবার সকালে উপজেলার বড়লিয়া ইউনিয়ন থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ভ্যানটি উদ্ধার করে পুলিশ। লুন্ঠিত মাছের আনুমানিক মূল্য ১০ লাখ টাকা বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী।
পুলিশ ও ভুক্তভোগীরা জানান, রোববার রাতে চট্টগ্রাম নগরীর ফিশারিঘাট থেকে মাছবোঝাই একটি ছোট কাভার্ডভ্যান চকরিয়া বাস টার্মিনাল এলাকার আড়তে যাচ্ছিল। গাড়িটি পটিয়া বাইপাস সড়ক এলাকায় পৌঁছালে পেছন থেকে একটি জিএমসি গাড়ি সেটিকে ধাক্কা দেয়। কিছুদূর যাওয়ার পর ওই গাড়িতে থাকা চারজন ছিনতাইকারী আবারও ধাক্কা দিয়ে কাভার্ডভ্যানটির গতিরোধ করে।
এ সময় ছিনতাইকারীরা কাভার্ডভ্যানটির চালক গিয়াস উদ্দীনকে টেনে-হেঁচড়ে নামিয়ে মারধর শুরু করে। একপর্যায়ে প্রাণভয়ে চালক সেখান থেকে পালিয়ে যান। পরে দুর্বৃত্তরা মাছভর্তি গাড়িটি নিয়ে উপজেলার বড়লিয়া ইউনিয়নের নির্জন এলাকার দিকে চলে যায়।
চালক গিয়াস উদ্দীন জানান, তিনি কৌশলে পালিয়ে গিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি গাড়ির মালিক ও পুলিশকে জানান। খবর পেয়ে পুলিশ রাতভর বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি চালায়। অবশেষে সোমবার সকালে বড়লিয়া মেলঘর এলাকা থেকে কাভার্ডভ্যানটি উদ্ধার করা হয়, তবে ভেতরে কোনো মাছ ছিল না।
মাছের মালিক আড়তদার নাজিম উদ্দীন বলেন, বাইপাস এলাকা থেকে গাড়িটি জিম্মি করে বড়লিয়া ইউনিয়নের নির্জন এলাকায় নিয়ে মাছগুলো আনলোড করে অন্য গাড়িতে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে তার ধারণা। তিনি জানান, গাড়িটিতে সাগরের বিভিন্ন জাতের প্রায় সাড়ে ৩ টন মাছ ছিল। গত ১৫ বছর ধরে মাছের ব্যবসা করলেও এমন ঘটনার শিকার তিনি এবারই প্রথম হলেন।
পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক জানান, এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
