
খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলায় হঠাৎ করেই এলপি গ্যাসের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে কোম্পানিগুলো থেকে পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় চরম বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ভোক্তারা। রান্নার কাজ চালাতে অনেকে বাধ্য হয়ে চড়া দামে নতুন সিলিন্ডার কিনছেন, আবার গ্যাস না পেয়ে কেউ কেউ ঝুঁকছেন মাটির চুলা ও লাকড়ির দিকে। রোববার উপজেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, যমুনা, বসুন্ধরা ও ফ্রেশসহ জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের এলপি গ্যাস উপজেলার বাজারগুলোতে প্রায় নেই বললেই চলে। হাতেগোনা কয়েকটি দোকানে স্বল্প পরিসরে ওমেরা ও আই গ্যাস পাওয়া গেলেও তা স্থানীয় চাহিদার তুলনায় খুবই নগণ্য। ফলে অন্য ব্র্যান্ডের বোতল ব্যবহারকারীরা রিফিল করতে গিয়ে বিপদে পড়ছেন। বাধ্য হয়ে অনেকে নতুন বোতলসহ গ্যাস কিনছেন, যার জন্য তাদের গুনতে হচ্ছে ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ৫০ টাকা পর্যন্ত। আবার অনেক খুচরা বিক্রেতার কাছে কোনো গ্যাসই নেই।
উপজেলার কবাখালী এলাকার ভোক্তা মো. মামুন জানান, তিনি বসুন্ধরা ব্র্যান্ডের গ্যাস ব্যবহার করেন। এক সপ্তাহ আগে গ্যাস শেষ হয়ে যাওয়ায় রোববার খালি বোতল নিয়ে পুরো বাজার ঘুরেও গ্যাস পাননি। তিনি বলেন, বসুন্ধরা ব্র্যান্ডের বোতল দিয়ে অন্য কোনো গ্যাস দিচ্ছে না। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে খালি বোতল রেখে লাকড়ি কিনে বাসায় ফিরছি।
আরেক ভোক্তা মো. আফছার জানান, প্রায় এক মাস আগে তার এলপি গ্যাস শেষ হয়েছে। নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডের গ্যাস না থাকায় বাজারে কয়েক দফায় ঘুরেও খালি বোতল রিফিল করতে পারেননি তিনি। আফছার বলেন, বাধ্য হয়ে লাকড়ি দিয়ে চুলায় রান্না করতে হচ্ছে। কিন্তু মাঝে মাঝে লাকড়িও পাই না। মাটির চুলায় রান্না করার কারণে নানা রকম অসুবিধার মধ্যে পড়তে হচ্ছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, কোম্পানিগুলো চাহিদামত সরবরাহ দিচ্ছে না। স্থানীয় এলপি গ্যাস ডিলার মো. হাবিব উল্লাহ বলেন, কোম্পানি থেকে বাজারে সব ধরনের এলপি গ্যাসের পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে। তাই চাইলেও সংকটের কারণে ভোক্তাদের কাছে পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ করতে পারছি না। এক ব্র্যান্ডের বোতলে অন্য ব্র্যান্ডের গ্যাস দিলে আমাদের ক্ষতির মুখে পড়তে হয়।
খুচরা বিক্রেতারাও একই কথা বলছেন। স্থানীয় রিটেইলার মো. ছৈয়দ আলম (কুসুম) জানান, কোম্পানিগুলো থেকে নিয়মিত গ্যাসের সাপ্লাই পাওয়া যাচ্ছে না। রোববার অল্প পরিমাণ আই গ্যাস এলেও তা খুব দ্রুত শেষ হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা তার। তিনি বলেন, প্রতিদিন অসংখ্য ক্রেতা এসে গ্যাস না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। আমরা নিজেরাও অসহায়। নির্বাচনের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছি।
এদিকে সাধারণ ভোক্তাদের অভিযোগ, এই সংকট কৃত্রিমভাবে তৈরি করা হয়ে থাকতে পারে। সামনে রমজান মাস, তার আগেই প্রশাসন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নিলে ভোগান্তি আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। খুব শিগগিরই এই সংকট কাটিয়ে নিয়মিত গ্যাস সরবরাহের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
