সোনাইমুড়ীতে ভোটের সরঞ্জামে অনিয়ম, বিদ্যুৎ গেলেই বন্ধ নজরদারি


নোয়াখালী-১ (চাটখিল-সোনাইমুড়ী আংশিক) আসনে নির্বাচনের মাত্র একদিন বাকি থাকলেও সোনাইমুড়ী উপজেলার ভোটকেন্দ্রগুলোতে সিসি ক্যামেরা স্থাপন নিয়ে বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সরকারি বরাদ্দের তুলনায় কম দামি ক্যামেরা লাগানো, নির্ধারিত সংখ্যার চেয়ে কম ক্যামেরা স্থাপন এবং এসব তথ্য গোপন করতে প্রশাসনের তালবাহানায় সুষ্ঠু নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে প্রতিটি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা ও আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম স্থাপনের জন্য ৩২ হাজার ৮০০ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সোনাইমুড়ী উপজেলার ৫৫টি কেন্দ্রের জন্য মোট বরাদ্দ ১৮ লাখ ৪ হাজার টাকা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কেন্দ্রগুলোতে হিকভিশন ব্র্যান্ডের ক্যামেরা, ডিভিআর ও মনিটরসহ যে সেটআপ দেওয়া হচ্ছে, বর্তমান বাজারে তার খুচরা মূল্য সর্বোচ্চ ২৫ থেকে ২৬ হাজার টাকা। অর্থাৎ প্রতি কেন্দ্রে অন্তত ৬-৭ হাজার টাকার কোনো হদিস মিলছে না, যা ৫৫টি কেন্দ্রের হিসাবে বিপুল অঙ্কের টাকা।

শুধু দামেই নয়, ক্যামেরার সংখ্যা নিয়েও চলছে কারচুপি। সরকারি নির্দেশনায় প্রতিটি কেন্দ্রে স্পর্শকাতর স্থান বিবেচনায় অন্তত ৬টি ক্যামেরা বসানোর কথা থাকলেও বাস্তবে অনেক কেন্দ্রে ৫টি বা তারও কম ক্যামেরা লাগানো হচ্ছে। এতে কেন্দ্রের অনেক গুরুত্বপূর্ণ অংশ নজরদারির বাইরে থেকে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

অনিয়মের এসব বিষয় ধামাচাপা দিতেই তথ্য প্রদানে গোপনীয়তা রক্ষা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত ২-৩ দিন ধরে উপজেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে কোন কোন কেন্দ্রে ক্যামেরা বসানো হচ্ছে এবং কার্যাদেশ পাওয়া প্রতিষ্ঠানের বিস্তারিত তালিকা চাওয়া হলেও তা দেওয়া হচ্ছে না।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার উপ-সহকারী আব্দুল মতিন তালিকা দেওয়ার কথা বলে কালক্ষেপণ করছেন। এমনকি তদারকির দায়িত্বে থাকা ট্যাগ অফিসাররাও ক্যামেরার বিষয়ে কোনো তথ্য দিতে পারছেন না।

চৌমুহনী এলাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘গুডলাক আইটি’র স্বত্বাধিকারী তৌহিদুর রহমান দাবি করেছেন, সরকারি মানের চেয়ে ভালো ক্যামেরা দেওয়া হচ্ছে। তবে অনলাইনে যাচাই করে দেখা গেছে, ব্যবহৃত সরঞ্জামের দাম সরকারি বরাদ্দের চেয়ে ঢের কম।

এছাড়া কেন্দ্রগুলোতে ইন্টারনেট সংযোগ থাকলেও বিদ্যুৎ চলে গেলে ক্যামেরা সচল রাখার কোনো বিকল্প ব্যবস্থা (আইপিএস বা ইউপিএস) রাখা হয়নি। ফলে ভোটের দিন লোডশেডিং হলে পুরো নজরদারি ব্যবস্থাই অকার্যকর হয়ে পড়বে।

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, ভোটের মাত্র একদিন বাকি থাকতে সিসি ক্যামেরা স্থাপনে এমন ধোঁয়াশা, নিম্নমানের সরঞ্জাম ব্যবহার এবং প্রশাসনের তথ্য লুকানোর প্রবণতা নির্বাচনের স্বচ্ছতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে।