
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সব ধরনের প্রচার-প্রচারণা মঙ্গলবার সকালে শেষ হয়েছে। আগামী বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে কক্সবাজার-০১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনের বহুল কাঙ্ক্ষিত ভোটগ্রহণ। ২৫টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এই আসনে শেষ মুহূর্তের সমীকরণে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। ভোটার ও স্থানীয় বিশ্লেষকদের মতে, এই আসনে ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বী থাকলেও মূল লড়াই হবে ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লার মধ্যে।
আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত তরুণ প্রার্থী কক্সবাজার শহর জামায়াতের আমির আব্দুল্লাহ আল ফারুকের মধ্যে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাওলানা ছরওয়ার আলম কুতুবী হাতপাখা প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নিলেও মাঠে তার তৎপরতা তুলনামূলক কম।
তফসিল ঘোষণার পর থেকেই সালাহউদ্দিন আহমদ চকরিয়া-পেকুয়ার প্রতিটি জনপদে গণসংযোগ, পথসভা ও সামাজিক বৈঠকে অংশ নিয়েছেন। তিনি তার দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, অতীতের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এবং ভবিষ্যতের আধুনিক জীবনযাত্রার প্রতিশ্রুতির ওপর ভিত্তি করে ভোট চাইছেন। তরুণ ভোটার, প্রবাসী পরিবার ও ব্যবসায়ীদের সমন্বয়ে বিএনপির একটি শক্ত অবস্থান তৈরি হয়েছে। সালাহউদ্দিন আহমদ নিজেই বলেছেন, মানুষের কল্যাণ সাধনই তার একমাত্র লক্ষ্য।
অন্যদিকে, তরুণ রাজনীতিবিদ আব্দুল্লাহ আল ফারুক বড় শোডাউনের চেয়ে তৃণমূলভিত্তিক সংযোগ ও নীরব ভোটব্যাংকের ওপর বেশি জোর দিয়েছেন। দীর্ঘদিনের সুসংগঠিত সাংগঠনিক কাঠামো, ধর্মীয় ও সামাজিক নেটওয়ার্ক কাজে লাগিয়ে তিনি ভোটের মাঠে শক্ত প্রতিপক্ষ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, জামায়াতের ভোটাররা প্রকাশ্যে খুব বেশি সরব না হলেও ভোটের দিন তাদের উপস্থিতি এবং নীরব ভোট বিপ্লব নির্বাচনের ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
চকরিয়া-পেকুয়া আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ৩৩ হাজার ৮৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৮৪ হাজার ৪৬৯ জন এবং নারী ভোটার ২ লাখ ৪৮ হাজার ৬২০ জন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এবারের নির্বাচনে সংখ্যালঘু ভোটার, নারী ও তরুণদের ভোট জয়-পরাজয়ের মূল চাবিকাঠি হবে।
অতীতের নির্বাচনের ফলাফলের দিকে তাকালে দেখা যায়, এই আসনে বিএনপি ও জামায়াত উভয়েরই জয়ের রেকর্ড রয়েছে। ১৯৯১ সালে জামায়াত এবং ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে বিএনপি বিপুল ভোটে জয়লাভ করে। ২০০৮ সালে সালাহউদ্দিন আহমদের স্ত্রী হাসিনা আহমেদ সাংসদ নির্বাচিত হন। তবে ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনগুলোর প্রেক্ষাপট ছিল ভিন্ন।
এবার অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশে অভিজ্ঞ সালাহউদ্দিন আহমদের জনপ্রিয়তা নাকি আব্দুল্লাহ আল ফারুকের সাংগঠনিক শক্তির জয় হবে, তা দেখার অপেক্ষায় চকরিয়া-পেকুয়াবাসী। শেষ পর্যন্ত ১২ ফেব্রুয়ারি ব্যালট পেপারেই নির্ধারিত হবে আগামী পাঁচ বছরের জন্য এই জনপদের নেতৃত্ব কার হাতে থাকবে।
