
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের গণভোট। দেশের ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো একই দিনে দুটি ভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত একটানা ভোটগ্রহণ চলবে।
ভোটের কয়েক দিন আগে শেরপুর-৩ আসনের একজন প্রার্থীর মৃত্যুতে ওই আসনের নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে, ফলে ২৯৯টি আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে ৫০টি রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র মিলে মোট ১ হাজার ৭৫৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মোট ভোটার সংখ্যা পৌনে ১৩ কোটির বেশি, যার মধ্যে ৬ কোটি ৪৮ লাখ পুরুষ ও ৬ কোটি ২৮ লাখ নারী ভোটার রয়েছেন।
বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের সংখ্যা এবার উল্লেখযোগ্য; ৩৫ বছরের নিচে ভোটারের সংখ্যা ৪ কোটি ৯০ লাখ।
নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সশস্ত্র বাহিনী, পুলিশ ও আনসারসহ বিভিন্ন বাহিনীর ৯ লাখেরও বেশি সদস্য নির্বাচনী মাঠে দায়িত্ব পালন করবেন।
ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের পাশাপাশি পুলিশ সদস্যদের শরীরে ‘বডি ওর্ন ক্যামেরা’ যুক্ত করা হয়েছে। বুধবার সকাল থেকেই কড়া নিরাপত্তার মধ্যে ব্যালট পেপার ও ব্যালট বাক্সসহ নির্বাচনী সরঞ্জাম কেন্দ্রে কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন জানিয়েছেন, একটি শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনে কমিশন বদ্ধপরিকর। ভোটারদের সুবিধার্থে ‘স্মার্ট ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট বিডি’ অ্যাপ, ১০৫ হটলাইন এবং এসএমএস সেবা চালু রাখা হয়েছে, যার মাধ্যমে ভোটাররা সহজেই কেন্দ্রের তথ্য জানতে পারবেন।
তবে একই দিনে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়া এবং প্রথমবারের মতো প্রবাসী ও সরকারি কর্মকর্তাদের পোস্টাল ব্যালট যুক্ত হওয়ায় ফলাফল ঘোষণায় কিছুটা বিলম্ব হতে পারে বলে আগেই জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
ধারণা করা হচ্ছে, বৃহস্পতিবার ভোটগ্রহণ শেষে চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করতে শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
